Showing posts with label টিপস্ এন্ড ট্রিকস্. Show all posts
Showing posts with label টিপস্ এন্ড ট্রিকস্. Show all posts

Wednesday, February 19, 2025

জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত এবং নীতির গুরুত্ব

জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত এবং নীতির গুরুত্ব



মানুষের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত এবং নীতির গুরুত্ব অপরিসীম। সঠিক নীতি অনুসরণ করলে জীবনের মান উন্নত হয়, আর ভুল নীতি আপনাকে বিপদে ফেলতে পারে। নিচে কিছু মূল্যবান নিয়ম এবং জীবনব্যবস্থা উল্লেখ করা হলো যা আপনাকে জীবনে সাফল্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে:

১. নিজেকে কখনো বড় করে প্রকাশ করবেন না।

নিজেকে বড় করে তুলে ধরা আত্মবিশ্বাস নয়, অহংকার। এটি অন্যের চোখে আপনাকে ছোট করে তোলে। বিনয়ী এবং নম্র আচরণ মানুষের মন জয় করার চাবিকাঠি।

২. ভুল স্বীকার করুন এবং "Thank you", "Please" বলুন।

ভুল স্বীকার করা দুর্বলতা নয় বরং আত্মজ্ঞান এবং সাহসিকতার পরিচয়। ছোট কথাগুলো যেমন "ধন্যবাদ" বা "অনুগ্রহ করে" মানুষকে সম্মানিত করে এবং সম্পর্ক উন্নত করে।

৩. নিজের গোপন কথা কাউকে বলবেন না।

গোপন বিষয় শেয়ার করা ঝুঁকিপূর্ণ। কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করলে আপনাকে বিপদে পড়তে হতে পারে। সবসময় সতর্ক থাকুন।


৪. অভিজ্ঞতা ছাড়া ব্যবসায় ঝাঁপ দেবেন না।

অর্থ এবং সময়ের অপচয় এড়াতে যেকোনো ব্যবসায় নামার আগে জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করুন।


৫. পরচর্চা করবেন না।

যে অন্যের নিন্দা করে, সে আপনার পেছনেও নিন্দা করবে। নিজের সময় এবং মানসিক শক্তি নষ্ট না করে ইতিবাচক কাজে মনোযোগ দিন।


. গাধার সঙ্গে তর্ক করবেন না।

তর্কের শুরুতেই সে আপনাকে তার স্তরে নামিয়ে আনবে এবং আপনাকে অপদস্থ করবে। তাই, যুক্তিহীন তর্ক এড়িয়ে চলুন।


৭. কোনো কাজ পরে করার জন্য ফেলে রাখবেন না।

যদি কাজ ফেলে রাখেন, তা আর কখনোই সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। "এখনই" কাজ শেষ করার অভ্যাস তৈরি করুন।


৮. ‘না’ বলতে শিখুন।

সবসময় অন্যকে খুশি করার জন্য নিজেকে বোঝার মধ্যে ফেলবেন না। প্রয়োজনে দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলুন। এটি আত্মসম্মান রক্ষার অংশ।


. বাবা-মা এবং জীবনসঙ্গীকে সমান গুরুত্ব দিন।

কোনো সম্পর্কের কারণে অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে উপেক্ষা করবেন না। পরিবার হলো জীবনের মূল শক্তি।


১০. সবাইকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করবেন না।

আপনি যদি সবসময় অন্যকে সন্তুষ্ট করার জন্য নিজেকে পরিবর্তন করেন, তবে নিজের ব্যক্তিত্ব হারাবেন। নিজের মূল্য বুঝতে শিখুন।


১১. ঝুঁকি ছাড়া সাফল্য আসে না।

সফল হতে হলে জীবনে হিসাব করা ঝুঁকি নিতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা এবং সাহসিকতার মাধ্যমে এগিয়ে যান।


১২. স্মার্টফোনে আসক্ত হবেন না।

স্মার্টফোন জীবন সহজ করে, তবে অতিরিক্ত ব্যবহার আপনার সময় এবং মনোযোগ নষ্ট করে। গুগলে সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় না, তাই বাস্তব জীবনেও অভিজ্ঞতা অর্জন করুন।


১৩. ইচ্ছা প্রকাশ করতে দেরি করবেন না।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে ভয় পাবেন না। দেরি করার ফলে হয়তো কখনোই তা আর প্রকাশ করা হবে না, যা সারা জীবনের আফসোস হয়ে থাকতে পারে।


১৪. মানসিক শান্তি নষ্ট করে এমন সম্পর্ক থেকে সরে আসুন।

যে সম্পর্ক আপনাকে কষ্ট দেয়, তা আঁকড়ে ধরা উচিত নয়। মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন।


১৫. লক্ষ্যের পিছু ধাওয়া করা বন্ধ করবেন না।

আপনি কখনোই জানেন না যে সাফল্য ঠিক কতটা কাছাকাছি। তাই ধৈর্য ধরে চেষ্টা চালিয়ে যান। বেশিরভাগ মানুষ হাল ছেড়ে দেয় সাফল্যের ঠিক আগে।


১৬. অকারণে শত্রু তৈরি করবেন না।

অকারণে কারো সঙ্গে শত্রুতা তৈরি করা নিজের ক্ষতি ডেকে আনে। সম্পর্ক রক্ষা করতে যতটা সম্ভব কৌশলী থাকুন।


১৭. কারো ধর্মবিশ্বাসে আঘাত করবেন না।

ধর্ম এবং বিশ্বাস মানুষের অন্তরের গভীরে থাকে। এটি নিয়ে কটূক্তি করা বা সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।


১৮. একান্ত মুহূর্তের ছবি বা ভিডিও করবেন না।

ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি বা ভিডিও রেকর্ড করা ভবিষ্যতে বিপদের কারণ হতে পারে। এ ধরনের ভুল থেকে দূরে থাকুন।


১৯. সম্মান বিসর্জন দিয়ে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখবেন না।

যে জায়গায় আপনার সম্মান নেই, সেখানে থাকা নিজের আত্মসম্মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। নিজেকে মূল্য দিন।


২০. টাকার পেছনে দৌড়ে প্রিয়জনদের উপেক্ষা করবেন না।

টাকা গুরুত্বপূর্ণ, তবে তা যেন প্রিয়জনদের সময় এবং ভালোবাসার বিকল্প না হয়। ব্যালান্স বজায় রাখুন।


২১. যা হারিয়েছেন তা নিয়ে আফসোস করবেন না।

হারানো জিনিস বা সময় নিয়ে আফসোস করা কেবল আপনাকে পেছনে টানে। ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।


এই নিয়মগুলো অনুসরণ করলে জীবন আরও সমৃদ্ধ, শান্তিময় এবং সফল হয়ে উঠবে। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে সচেতন হয়ে সিদ্ধান্ত নিন।

 

Sunday, January 26, 2025

বিদেশি গাছের অপকারী দিক

বিদেশি গাছের অপকারী দিক


 
ইউক্লিপটাস, শিশু, মেহগনি, রেইন ট্রি গাছগুলোকে  অত্যধিক পানি শোষণ করে জমি শুকিয়ে ফেলে। শিকড় গভীরে প্রোথিত না হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে আশপাশে অন্য গাছপালা জন্মাতে দেয় না। একটা গাছ থেকে আরেকটি গাছের পর্যাপ্ত পুষ্টি প্রাপ্তির জন্য দূরত্ব চাই।

শিমুল, শিরীষ, জারুল ও হিজল গাছ আমাদের দেশের দরকারী উদ্ভিদ। শিকড় গভীরে প্রোথিত হয়। ফলে পাশে অন্য কিছুও জন্মাতে পারে।

কুলাউড়া স্টেশনে নেমে বেবিট্যাক্সিতে করে বড়লেখার শিমুলিয়া গ্রাম। পাশেই ৫ কিলোমিটার ভেতরে পাথারিয়ার পাহাড় আর মাধবকুণ্ডের ঝর্ণা। 
এসব ল্যান্ডস্কেপে সুপারি, জবা ফুল, সেগুন গাছ খাপ খায় না। পাহাড়ি প্রকৃতির নিজস্বতা আছে। তার বাইরে যদি এসব গাছ লাগানো হয় তাহলে তো প্রাকৃতিক হলো না। অথচ এই পাহাড়ি অঞ্চলে সেসব বৃক্ষ ও গাছপালা লাগানো হয়েছে, যেগুলো এখানকার সঙ্গে যায় না। দীর্ঘদিনের ভুল চর্চায় এমন হাল হয়েছে যে, বনায়নের কথা বলতে গেলে ইউক্যালিপটাস, মেহগনি জাতীয় একাশিয়া শ্রেণির গাছ লাগানোর কথাই মনে করা হয়। এ ধরনের প্রবণতা গড়ে ওঠার একটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে বিদেশ থেকে আনা অর্থ দিয়ে বনায়নের পরিকল্পনা।


আমাদের পাখিরা একাশিয়া, ইউক্যালিপটাস, মেহগনি গাছগুলোতে বসে না। কারণ এসব গাছ তারা চেনে না। এগুলো বিদেশ থেকে আসা। বিদেশি গাছে দেশি পাখিরা না বসার কারণ হচ্ছে তারা তো ওই গাছের গন্ধ চেনে না। ফলে পরিবেশগত ভারসাম্য রাখতে পারে না। গাছপালার বংশবৃদ্ধিতেও পাখির ভূমিকা বিঘি্নত হচ্ছে।

মেহগনি ও সেগুন, রেইন ট্রি শুধু কাঠই দেয়। মেহগনি যদিও চিরসবুজ, কিন্তু এটি বাড়ে ধীরগতিতে। অথচ রাস্তার ধারে দেশীয় পাঁচমিশালি ফলদ গাছ, যা থেকে প্রতি বছর ফল ও পরিণত বয়সে কাঠ পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়_ আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু ও অন্যান্য ফল চাষ করে আমরা ফল ও কাঠের চহিদা পূরণ করতে পারি। 

এ ছাড়া আছে জলপাই, চালতা, তেঁতুল, তাল, খেজুর, গাব, বেল, কুল প্রভৃতি ফলের গাছ; অর্জুন, নিম, আমলকী, হরীতকী প্রভৃতি ঔষধি গাছ। এগুলো আমাদের দেশের জন্য খুবই উপযোগী।


রেইনট্রি আমাদের দেশের জন্য ক্ষতিকর। মেহগনি যদিও চিরসবুজ, কিন্তু এটি বাড়ে ধীরগতিতে। রাস্তার ধারে লাগানো এসব কাঠের গাছ থেকে একসময় কাঠ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, তস্করবৃত্তির কারণে বাস্তবে তা আদৌ সম্ভব কি না, ভবিতব্যই জানে। অথচ রাস্তার ধারে দেশীয় পাঁচমিশালি ফলদ গাছ, যা থেকে প্রতিবছর ফল ও পরিণত বয়সে কাঠ পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

আম, জাম, কাঁঠাল, জলপাই, চালতা, তেঁতুল, তাল, খেজুর, গাব, বেল, কুল, লটকন, কাউ প্রভৃতি ফলের গাছের পাশাপাশি অর্জুন, নিম, আমলকী, হরীতকী, বহেড়া প্রভৃতি ঔষধি গাছ দৃষ্টিনন্দনও। কৃষ্ণচূড়া কদম, কাঠবাদাম প্রভৃতি গাছ লাগালে জীববৈচিত্র্য রক্ষাসহ সেগুলো খাদ্য ও পুষ্টির জোগান দিত।

কাঠের কথা চিন্তায় থাকবে, পাশাপাশি কাঠ ও ফল উভয়ের কথা চিন্তা করতে হবে। বিদেশি ফল ও কাঠনির্ভর হওয়া মানে দেশের টাকা বিদেশে চলে যাওয়া।

তাই গাছ লাগাতে শতকরা ৫০ ভাগ দেশীয় ফলের গাছ, ১০ ভাগ ঔষধি গাছ, ১০ ভাগ অন্যান্য গাছ এবং ৩০ ভাগ কাঠের গাছ লাগানো উচিত। 



বিদেশ থেকে আনা আকাশি, ম্যানজিয়াম, রাবার, ইউক্যালিপটাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির আগ্রাসী গাছ-গাছালি আমাদের জীববৈচিত্র্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। স্থানীয় প্রজাতির গাছ, কৃষি উত্পাদন বিপন্ন হয়ে পড়ছে। সিলেট অঞ্চলের সংরক্ষিত বনাঞ্চল, রাস্তার ধারে এসব বিদেশি গাছের বাগান এখন ব্যাপকভাবে দৃশ্যমান। 

সামাজিক বনায়ন এবং ব্যক্তি উদ্যোগে আগ্রাসী প্রজাতির এসব গাছ রোপণ করা হচ্ছে। বন বিভাগও পিছিয়ে নেই। দ্রুত বর্ধনশীল এসব প্রজাতির গাছ দিয়ে তারাও বনায়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত বর্ধনশীল হওয়ায় মুনাফা ঘরে তোলা যায় তাড়াতাড়ি। মূলত এ কারণেই গত কয়েক যুগ ধরে এসব গাছ লাগানোর হিড়িক পড়ে  গেছে। দেশি প্রজাতির মূল্যবান কাঠ, ফল ও ঔষধি গাছ লাগানোর বিষয়টি উপেক্ষিত হচ্ছে।

 ‘আমাদের দেশে দরকার জলজ উদ্ভিদ। এখানে জলজ জায়গা বেশি। শিকড় গভীরে প্রোথিত হয়। ফলে পাশে অন্য গাছ-গাছালি জন্মাতে পারে।’

রাস্তার পাশে লাগানো বিদেশি গাছের ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে কৃষির উপর।  আকাশী, ম্যানজিয়াম গাছ কৃষি জমি নষ্ট করছে। মাছের জন্যও এগুলো ক্ষতিকর। গাছের ছায়া ধানের জমির বেশ কিছু জায়গা দখল করে রাখে। ছায়ায় হওয়া এই ধান গাছ পাতা মোড়ানো রোগসহ বিভিন্ন ছত্রাকে আক্রান্ত হয়। এসব ধান পরে গরু মহিষকে খাওয়ানো ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। 

আকাশী গাছের ছায়ায়  কোনো সবজিও হয় না। এসব গাছের কারণে মাছের চাষও ব্যাহত হচ্ছে। এ ধরনের নানা নেতিবাচক প্রভাব থাকার পরও আনাচে-কানাচে সড়কপথ ও রেলপথের পাশে এসব গাছ দিয়ে সামাজিক বনায়নের হিড়িক শুরু হয়েছে। 


 আগ্রাসী প্রজাতির গাছগাছালি, পশু-পাখির খাবার তৈরি করে না এবং দ্রুত বিস্তারের সময় অন্য গাছের সালোক সংশ্লেষণ-প্রক্রিয়া ব্যাহত করে। যে কারণে জীববৈচিত্র্যের জন্য গাছগুলো খুবই ক্ষতিকর।

Saturday, January 25, 2025

একটি বই প্রকাশ করতে হলে যথাক্রমে এই কাজগুলো করতে হয়

একটি বই প্রকাশ করতে হলে যথাক্রমে এই কাজগুলো করতে হয়



একটি বই প্রকাশ করতে হলে যথাক্রমে এই কাজগুলো করতে হয় :

.কম্পোজ

.প্রুফ রিডিং এবং সম্পাদনা

.অলঙ্করণ প্রচ্ছদ ডিজাইন মেকআপ

.পেস্টিং অথবা কম্পিউটারে ফর্মা সেটিং

.ট্রেসিং পজেটিভ

.প্রচ্ছদের পজেটিভ

.প্লেট তৈরি

.ইনার প্রচ্ছদের জন্য কাগজ

.ছাপা

১০.লেমিনেশন

১১.বাঁধাই

১২. অন্যান্য

ফর্মা কাকে বলে : একটি ডিমাই (২৩ ইঞ্চি১৮ ইঞ্চি)

সাড়ে আট বাই সাড়ে পাঁচ ইঞ্চি (প্রায়) সাইজের বইয়ে ১৬ পৃষ্ঠায়

১৬ পৃষ্ঠায় ফর্মার বই করতে হলে ডাবল ডিমাই কাগজ

আমাদের দেশের মার্কেটে সাধারণত ডাবল ডিমাই কাগজ বেশি পাওয়া যায়

সেদিক দিয়ে একটা ডাবল কাগজের দুই দিক ছাপা মানে দুই ফর্মা তার মানে একটা দশ ফর্মার বই ছাপতে আপনার দরকার হবে পাঁচটি ডাবল ডিমাই কাগজ

এভাবে ৫০০ বই করতে কতটি কাগজ দরকার তা আপনি সহজেই বের করতে পারবেন বইয়ের ফর্মা সংখ্যার হেরফের হলেও হিসাব করতে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয় এখন চটজলদি বের করে ফেলুন আপনার বইটি কয় ফর্মার হবে এবং কত শিট কাগজ আপনার দরকার যত শিট কাগজ দরকার তাকে ৫০০ দিয়ে ভাগ করলেই আপনার রিমের হিসাবটি বের হয়ে আসবে অর্থাত্ ৫০০ শিট= রিম

মনে রাখবেন, প্রিন্টিং বাইন্ডিংয়ের কয়েকটি পর্যায়ে যেহেতু অনেক কাগজ নষ্ট হয় তাই ৫০০ বই পেতে হলে আপনার কমপক্ষে আরও ৪০-৫০টি বইয়ের ম্যাটেরিয়াল বেশি দিতে হবে বর্তমানে বাজারে ৮০ গ্রাম ডাবল ডিমাই বসুন্ধরা কাগজের মূল্য ২০০০ টাকা/রিম (প্রায়)

সাধারণ মানের বইয়ে ৬০ থেকে ৮০ গ্রাম কাগজ ব্যবহার হয় গ্রাম হচ্ছে কাগজের পুরুত্বের হিসাব

 

প্লেট কী

প্লেট হচ্ছে অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি একটি মুদ্রণ অনুষঙ্গ আপনার বইটি যদি ডাবল ডিমাই মেশিনে ছাপতে চান তবে বইটি যত ফর্মার হবে ততটি প্লেটের দরকার হবে প্রতিটি প্লেটের মেকিং চার্জসহ দাম পড়বে ৩০০ টাকার মতো তবে সময়ভেদে গত বছর ৬০০ টাকা পর্যনন্ত দাম ওঠে প্লেট করার আগে আপনার লেখাগুলোকে ট্রেসিং বা পজেটিভ আকারে বের করতে হবে বইয়ের মেকআপ করা থাকলে প্রতিটি ট্রেসিং নিতে খরচ পড়বে ১৫ টাকা এক ফর্মায় ৮টি ট্রেসিং লাগে

 

আউটপুট নিতে হলে প্রতি বর্গইঞ্চি/প্রতি কালারের জন্য দরকার হবে ৫০ থেকে ৬০ পয়সা পজিটিভ করতে হলে ফর্মা সেটিং আগে করে নিতে হবে তবে বাংলা পজেটিভ করতে ফন্টের সমস্যার দিকে খেয়াল রাখতে হবে কভার সাধারণত ছাপা হয় ডিমাই মেশিনে প্রতিটি ডিমাই প্লেটের জন্য খরচ পড়বে ১৫০ টাকার মতো উভয় ক্ষেত্রেই প্রতি কালারের জন্য একটি প্লেট ব্যবহার করতে হবে তার মানে আপনার বইটির ভেতরের অংশ যদি এক কালারে ছাপা হয় তবে তার জন্য প্রতি ফর্মায় একটি প্লেট, যদি দুই কালারে ছাপা হয় তাহলে প্রতি ফর্মার জন্য দুটি প্লেট আর যদি চার কালারে ছাপা হয় তবে প্রতি ফর্মার জন্য চারটি প্লেট দরকার হবে বইয়ের প্রচ্ছদ সাধারণত চার কালারে ছাপা হয়, তাই এর জন্য চারটি ডিমাই সাইজের প্লেট দরকার হবে

 

প্রচ্ছদ

বই বের করতে হলে প্রচ্ছদের দিকে বিশেষ খেয়াল দেওয়া উচিত এক্ষেত্রে প্রচ্ছদশিল্পী থেকে শুরু করে সব কাজেই প্রফেশনালদের ব্যবহার করতে হবে মনে রাখা উচিত, প্রিন্টিং টেকনোলজি বেশ জটিল তাই কাজে যে- জড়িত হবে সে যেন প্রিন্টিংয়ের টু জেড অবগত থাকে আর বইয়ের মূল আকর্ষণই হচ্ছে প্রচ্ছদ কথা তো আমরা জানিই বড় বড় আর্টিস্টরা একটি প্রচ্ছদের জন্য বিভিন্ন রকম পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন তবে প্রচলিত মানের একজন প্রচ্ছদশিল্পীর একটি কাজের পারিশ্রমিক আড়াই হাজার টাকার মতো ইলাস্ট্রেশনের খরচ নির্ভর করে ভেতরে কী পরিমাণ কাজ থাকবে তার ওপর

 

প্রুফ রিডিং এবং সম্পাদনা

বই প্রকাশের ক্ষেত্রে সম্পাদনা একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার কিন্তু আমাদের দেশে এই পেশায় যোগ্য লোক নেই বললেই চলে তবু আপনার প্রকাশনাটি মানসম্পন্ন করতে চাইলে একজন যোগ্য সম্পাদক খুঁজে বের করা উচিত 


সাধারণ মানের লেখকরা ধারণাই করতে পারেন না তার লেখাটিতে কত ধরনের খুঁত থেকে যায় একজন ভালো সম্পাদক সেগুলো দূর করতে পারেন তবে হতাশার কথা এই যে, আমাদের দেশে বই প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রায় কারওই সম্পাদনার ওপর কোনো বাজেট থাকে না তবে প্রুফ রিডাররা আছেন তারা টুকটাক ভুলভাল যে ধরেন তাতেও বইয়ের মান কিছুটা বজায় থাকে 


মনে রাখা দরকার, আপনি যা জানেন তার মধ্যে কতটুকু ত্রুটি আছে সে ব্যাপারে আপনার মোটেই ধারণা নেই যদি থাকত তবে আপনি ভুল লিখতেন না বই প্রকাশের পরে তাতে যে কোনো ধরনের ভুল থাকাটা কতটা হাস্যকর তারা মোটেই জানেন না যারা ব্যাপারটাকে উপেক্ষা করেন কয়েকদিন আগে এক বইমেলায় একটি বইয়ের নাম দেখলাম, ‘লেলিন….’ বুঝতেই পারছেন যারা লেনিনের নামটি ঠিকমতো জানেন না, তারা লেনিন সম্পর্কে কী বই বের করবেন 


আর একজন বিজ্ঞ পাঠক যখন বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ধরনের ভুল দেখবেন তখন ওই বই হাতে নিয়েও দেখবেন না তাই এই ব্যাপারটিতেও আপনাকে নজর দিতে হবে এবারে আমরা একটা বই প্রকাশের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য হিসাব করব এই হিসাব চূড়ান্ত কোনো হিসাব নয় এর চেয়ে কম অথবা বেশি বাজেটেও ধরনের একটা বই প্রকাশ সম্ভব হতে পারে এটা নির্ভর করে আপনি কতটা কোয়ালিটি মেইনটেইন করবেন তার ওপর

 

নমুনা হিসাব বইয়ের সাইজ : ফর্মা (৮০ পৃষ্ঠা)

কাগজ : ৮০ গ্রাম বসুন্ধরা ভেতরের ছাপা এক কালার কভার চার কালার,

লেমিনেশন বোর্ড বাঁধাই সংখ্যা : ৫০০ কপি

 

. কম্পোজ ইলাস্ট্রেশন……… ১০০০ ( লেখক নিজে কম্পিউটারে কম্পোজ করবে বলে খরচ কম হলো )

.প্রুফ রিডিং ………………. ২০০০

.প্রচ্ছদ ডিজাইন ……………. ২৫০০

.পেস্টিং ……………………. ৫০০

.মেকআপ ট্রেসিং ………….. ২০০০

.প্রচ্ছদের পজেটিভ …….……… ৫০০

.ডাবল ডিমাই প্লেট ৫টি ………. ১৫০০

  ডিমাই প্লেট ৪টা …………..…. ৬০০

.কাগজ রিম ১৫ দিস্তা … ……৫৫০০

আর্টপেপার ১২০ গ্রাম দিস্তা ……১৫০০

৭০ গ্রাম জ্যাকেট পেপার দিস্তা ......৪০০

পোস্তানির কাগজ ………………. ৯০০

.ছাপা প্লেট …………….… ২০০০

প্রচ্ছদ ছাপা …………………. ১৬০০

পোস্তানি প্রিন্ট ………….…….. ৫০০

১০.লেমিনেশন ………….……. ৭০০

১১.বাঁধাই ……………. ........ ৭৫০০

১২.অন্যান্য ………….……… ৫০০০

(যাতায়াত বিপনন)

--------------------------------------------

মোট প্রায়            ৩৭ হাজার টাকা

এই নমুনা হিসাবের সাথে আপনার বইয়ের সাইজ হিসাব করে বের করে নিন

আপনার বইটি ছাপাতে কত টাকা খরচ হতে পারে