Showing posts with label রোজনামচা. Show all posts
Showing posts with label রোজনামচা. Show all posts

Wednesday, February 19, 2025

 বয়স বাড়ার সাথে সাথে দুটো জিনিস নিয়মিত চেক করুন

বয়স বাড়ার সাথে সাথে দুটো জিনিস নিয়মিত চেক করুন



 

 

বয়স বাড়ার সাথে সাথে দুটো জিনিস নিয়মিত চেক করুন।

১) ব্লাড প্রেসার।

২) ব্লাড সুগার।

 

চারটি জিনিস একেবারেই ভুলে যান৷

১) বয়স বাড়ছে এটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করা,

২) অতীত নিয়ে সর্বদা অনুশোচনা করা,

৩) সবসময় দুঃখে কাতর হয়ে থাকা,

৪) মানসিক উৎকণ্ঠা বা উদ্বেগ।

 

পাঁচটি জিনিস খাবার থেকে যত পারুন এড়িয়ে চলুন।

১) লবন,

২) চিনি,

৩) অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় খাবার ।

৪) অতিরিক্ত ভাজা ভূজি খাবার

৫) বাইরের কেনা খাবার বা প্রসেসেড ফুড।

 

পাঁচটি জিনিস খাবারে যত পারুন বাড়িয়ে নিন।

১) সব রকমের সবুজ শাক

২) সব রকম সবুজ সব্জি, সীম বা মটরশুটি ইত্যাদি

৩) ফলমূল,

৪) বাদাম,

৫) প্রোটিন জাতীয় খাবার।

 

মানসিক শান্তি বা সুখী হতে সাতটি জিনিস সবসময় সাথে রাখার চেষ্টা করুন।

১) একজন প্রকৃত ভালো বন্ধু,

২) নিজের সমগ্ৰ পরিবার,

৩) সবসময় সুচিন্তা,

৪) একটি নিরাপদ ঘর কিংবা আশ্রয়,

৫) অল্পেতে খুশি হওয়ার চেষ্টা,

৬) অতিরিক্ত অর্থ চিন্তা থেকে নিজেকে দূরে রাখা,

৭) কিছু সময় আধ্যাত্মিক চর্চায় বা সৎসঙ্গ দেওয়া।

 

ছয়টি জিনিষের চর্চা রাখুন।

১) অহংকার না করা,

২) সবার সাথে হাসিমুখে কথা বলা,

৩) মানুষের সাথে ভালো আচরণ করা,

৪) নিয়মিত শরীর চর্চা করা ।কিছুক্ষণ হাঁটা নিয়মিত ।

৫) ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা।

৬) সরল ও সৎ জীবন যাপন

 

সাতটি জিনিস এড়িয়ে চলুন।

১) কর্য,

২) লোভ,

৩) আলস্য,

৪) ঘৃণা,

৫) সময়ের অপচয়,

৬) পরচর্চা,পরনিন্দা

৭) কোনো রূপ নেশা বা আসক্তি

 

পাঁচটি জিনিষ কখনোই করবেন না।

১) অতিরিক্ত ক্ষুধা নিয়ে খেতে যাওয়া,

২) অতিরিক্ত পিপাসায় কাতর হয়ে জল পান করা,

৩) অতিরিক্ত দূর্বল হয়ে ঘুমোতে যাওয়া,

৪) অতিরিক্ত দূর্বল হয়ে বিশ্রাম নেওয়া,

৫) একেবারে অসুস্থ হয়ে ডাক্তারের কাছে যাওয়া,

সব সময় নিজেকে সুস্থ রাখতে সচেতন হোন

সুস্থ্য থাকুন - ভাল থাকুন - ভাল রাখুন”

 


Sunday, January 26, 2025

বিদেশি গাছের অপকারী দিক

বিদেশি গাছের অপকারী দিক


 
ইউক্লিপটাস, শিশু, মেহগনি, রেইন ট্রি গাছগুলোকে  অত্যধিক পানি শোষণ করে জমি শুকিয়ে ফেলে। শিকড় গভীরে প্রোথিত না হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে আশপাশে অন্য গাছপালা জন্মাতে দেয় না। একটা গাছ থেকে আরেকটি গাছের পর্যাপ্ত পুষ্টি প্রাপ্তির জন্য দূরত্ব চাই।

শিমুল, শিরীষ, জারুল ও হিজল গাছ আমাদের দেশের দরকারী উদ্ভিদ। শিকড় গভীরে প্রোথিত হয়। ফলে পাশে অন্য কিছুও জন্মাতে পারে।

কুলাউড়া স্টেশনে নেমে বেবিট্যাক্সিতে করে বড়লেখার শিমুলিয়া গ্রাম। পাশেই ৫ কিলোমিটার ভেতরে পাথারিয়ার পাহাড় আর মাধবকুণ্ডের ঝর্ণা। 
এসব ল্যান্ডস্কেপে সুপারি, জবা ফুল, সেগুন গাছ খাপ খায় না। পাহাড়ি প্রকৃতির নিজস্বতা আছে। তার বাইরে যদি এসব গাছ লাগানো হয় তাহলে তো প্রাকৃতিক হলো না। অথচ এই পাহাড়ি অঞ্চলে সেসব বৃক্ষ ও গাছপালা লাগানো হয়েছে, যেগুলো এখানকার সঙ্গে যায় না। দীর্ঘদিনের ভুল চর্চায় এমন হাল হয়েছে যে, বনায়নের কথা বলতে গেলে ইউক্যালিপটাস, মেহগনি জাতীয় একাশিয়া শ্রেণির গাছ লাগানোর কথাই মনে করা হয়। এ ধরনের প্রবণতা গড়ে ওঠার একটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে বিদেশ থেকে আনা অর্থ দিয়ে বনায়নের পরিকল্পনা।


আমাদের পাখিরা একাশিয়া, ইউক্যালিপটাস, মেহগনি গাছগুলোতে বসে না। কারণ এসব গাছ তারা চেনে না। এগুলো বিদেশ থেকে আসা। বিদেশি গাছে দেশি পাখিরা না বসার কারণ হচ্ছে তারা তো ওই গাছের গন্ধ চেনে না। ফলে পরিবেশগত ভারসাম্য রাখতে পারে না। গাছপালার বংশবৃদ্ধিতেও পাখির ভূমিকা বিঘি্নত হচ্ছে।

মেহগনি ও সেগুন, রেইন ট্রি শুধু কাঠই দেয়। মেহগনি যদিও চিরসবুজ, কিন্তু এটি বাড়ে ধীরগতিতে। অথচ রাস্তার ধারে দেশীয় পাঁচমিশালি ফলদ গাছ, যা থেকে প্রতি বছর ফল ও পরিণত বয়সে কাঠ পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়_ আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু ও অন্যান্য ফল চাষ করে আমরা ফল ও কাঠের চহিদা পূরণ করতে পারি। 

এ ছাড়া আছে জলপাই, চালতা, তেঁতুল, তাল, খেজুর, গাব, বেল, কুল প্রভৃতি ফলের গাছ; অর্জুন, নিম, আমলকী, হরীতকী প্রভৃতি ঔষধি গাছ। এগুলো আমাদের দেশের জন্য খুবই উপযোগী।


রেইনট্রি আমাদের দেশের জন্য ক্ষতিকর। মেহগনি যদিও চিরসবুজ, কিন্তু এটি বাড়ে ধীরগতিতে। রাস্তার ধারে লাগানো এসব কাঠের গাছ থেকে একসময় কাঠ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, তস্করবৃত্তির কারণে বাস্তবে তা আদৌ সম্ভব কি না, ভবিতব্যই জানে। অথচ রাস্তার ধারে দেশীয় পাঁচমিশালি ফলদ গাছ, যা থেকে প্রতিবছর ফল ও পরিণত বয়সে কাঠ পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

আম, জাম, কাঁঠাল, জলপাই, চালতা, তেঁতুল, তাল, খেজুর, গাব, বেল, কুল, লটকন, কাউ প্রভৃতি ফলের গাছের পাশাপাশি অর্জুন, নিম, আমলকী, হরীতকী, বহেড়া প্রভৃতি ঔষধি গাছ দৃষ্টিনন্দনও। কৃষ্ণচূড়া কদম, কাঠবাদাম প্রভৃতি গাছ লাগালে জীববৈচিত্র্য রক্ষাসহ সেগুলো খাদ্য ও পুষ্টির জোগান দিত।

কাঠের কথা চিন্তায় থাকবে, পাশাপাশি কাঠ ও ফল উভয়ের কথা চিন্তা করতে হবে। বিদেশি ফল ও কাঠনির্ভর হওয়া মানে দেশের টাকা বিদেশে চলে যাওয়া।

তাই গাছ লাগাতে শতকরা ৫০ ভাগ দেশীয় ফলের গাছ, ১০ ভাগ ঔষধি গাছ, ১০ ভাগ অন্যান্য গাছ এবং ৩০ ভাগ কাঠের গাছ লাগানো উচিত। 



বিদেশ থেকে আনা আকাশি, ম্যানজিয়াম, রাবার, ইউক্যালিপটাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির আগ্রাসী গাছ-গাছালি আমাদের জীববৈচিত্র্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। স্থানীয় প্রজাতির গাছ, কৃষি উত্পাদন বিপন্ন হয়ে পড়ছে। সিলেট অঞ্চলের সংরক্ষিত বনাঞ্চল, রাস্তার ধারে এসব বিদেশি গাছের বাগান এখন ব্যাপকভাবে দৃশ্যমান। 

সামাজিক বনায়ন এবং ব্যক্তি উদ্যোগে আগ্রাসী প্রজাতির এসব গাছ রোপণ করা হচ্ছে। বন বিভাগও পিছিয়ে নেই। দ্রুত বর্ধনশীল এসব প্রজাতির গাছ দিয়ে তারাও বনায়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত বর্ধনশীল হওয়ায় মুনাফা ঘরে তোলা যায় তাড়াতাড়ি। মূলত এ কারণেই গত কয়েক যুগ ধরে এসব গাছ লাগানোর হিড়িক পড়ে  গেছে। দেশি প্রজাতির মূল্যবান কাঠ, ফল ও ঔষধি গাছ লাগানোর বিষয়টি উপেক্ষিত হচ্ছে।

 ‘আমাদের দেশে দরকার জলজ উদ্ভিদ। এখানে জলজ জায়গা বেশি। শিকড় গভীরে প্রোথিত হয়। ফলে পাশে অন্য গাছ-গাছালি জন্মাতে পারে।’

রাস্তার পাশে লাগানো বিদেশি গাছের ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে কৃষির উপর।  আকাশী, ম্যানজিয়াম গাছ কৃষি জমি নষ্ট করছে। মাছের জন্যও এগুলো ক্ষতিকর। গাছের ছায়া ধানের জমির বেশ কিছু জায়গা দখল করে রাখে। ছায়ায় হওয়া এই ধান গাছ পাতা মোড়ানো রোগসহ বিভিন্ন ছত্রাকে আক্রান্ত হয়। এসব ধান পরে গরু মহিষকে খাওয়ানো ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। 

আকাশী গাছের ছায়ায়  কোনো সবজিও হয় না। এসব গাছের কারণে মাছের চাষও ব্যাহত হচ্ছে। এ ধরনের নানা নেতিবাচক প্রভাব থাকার পরও আনাচে-কানাচে সড়কপথ ও রেলপথের পাশে এসব গাছ দিয়ে সামাজিক বনায়নের হিড়িক শুরু হয়েছে। 


 আগ্রাসী প্রজাতির গাছগাছালি, পশু-পাখির খাবার তৈরি করে না এবং দ্রুত বিস্তারের সময় অন্য গাছের সালোক সংশ্লেষণ-প্রক্রিয়া ব্যাহত করে। যে কারণে জীববৈচিত্র্যের জন্য গাছগুলো খুবই ক্ষতিকর।

Wednesday, September 18, 2019

বুক রিভিউ লেখার নিয়ম

বুক রিভিউ লেখার নিয়ম



অনেকেই জানতে চান কীভাবে বুক রিভিউ লিখতে হয়। সত্যি কথা বলতে, বুক রিভিউ লেখার ধরাবাঁধা কোন নিয়ম নেই। আপনার মনমতো যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে লিখতে পারেন। এর গঠনগত কোনো মডেল নেই, শুরু করার নির্দিষ্ট ব্যাকরণ নেই, শেষ করার কোন বিশেষ বিধি নেই।

বুক রিভিউ কাকে বলে?

উত্তর হতে পারে এমন : এটা জাস্ট আপনার একটা প্রতিক্রিয়া। একটা বই পড়ে আপনার কেমন লেগেছে সেই অনুভূতি। কেন এই বইটা অন্যদের পড়া উচিত সেই সম্পর্কে আপনার মতামত। যদি মনে করেন, বইটি আপনার খুব খারাপ লেগেছে বা পড়ে সময় নষ্ট হয়েছে—সেটা বলাও বুক রিভিউ। এটি অনেকটা পণ্যের গুণমানের মতো, যাতে আপনার রিভিউ পড়ে অন্যরা আগ্রহী অথবা সতর্ক হয়।

রিভিউয়ে কী থাকবে?

আগের আলোচনা নিয়ে একটু চিন্তা করলেই বোঝা যাবে একটা বইয়ের রিভিউয়ে কী কী থাকতে পারে। যেহেতু আপনি বইটি সম্পর্কে মানুষকে জানাতে চাচ্ছেন তাহলে বইটির পরিচিতি থাকবেঅর্থাৎ এটি কী ধরনের বই– কবিতা নাকি উপন্যাস, প্রবন্ধ নাকি ফিকশন, ধর্ম নাকি বিজ্ঞান, অর্থনৈতিক নাকি রাজনৈতিক? বইটির লেখক কে? লেখকের বিশেষ কোন পরিচয় থাকলে উল্লেখ করা যেতে পারে। বইটির প্রকাশনী কোনটা, কত সালে বইটি প্রকাশিত হয়েছে–এ ধরনের তথ্যও দিলে পাঠকের জন্য সুবিধা হবে।

দ্বিতীয়ত, বইটি কোন ধরনের পাঠকের জন্য উপযোগী? অর্থাৎ বইটি বুঝতে নির্দিষ্ট বয়স বা যোগ্যতা প্রয়োজন আছে কিনা। বইটি পড়লে তাদের কী লাভ হতে পারে? কোন ক্ষেত্রে এই বইয়ের জ্ঞান কাজে লাগতে পারে? সব বই যে জ্ঞানের হবে তা না। তাহলে বিনোদন হবে কিনা, আনন্দ পাবে কিনা, সুন্দর সময় কাটবে কিনা!

তৃতীয়ত, বইয়ের বিষয়বস্তু সংক্ষেপে বলা যেতে পারে, যাতে পাঠক একটু ধারণা লাভ করে। সারসংক্ষেপ জানলে পাঠক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বইটি পড়বে কিনা। তবে যদি উপন্যাস হয়, থ্রিলিং কোনো টুইস্ট থাকে– সেসব উল্লেখ করা উচিত নয়। কারণ রহস্য জেনে গেলে বইটি পড়ে আর মজা পাবে না।

চতুর্থত, লেখকের দক্ষতা প্রসঙ্গ। অর্থাৎ যে বিষয়টি নিয়ে তিনি লিখেছেন তা কতটা ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন। লেখক কতটা মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন, কতটা গভীরে যেতে পেরেছেন, কতটা নতুন কথা বলতে পেরেছেন, কতটা নতুন কিছু শেখাতে পেরেছেন। বইটি কি তার মৌলিক সৃষ্টি মনে হয়েছে নাকি কপিপেস্ট মার্কা চর্বিতচর্বণ হয়েছে—সেটাও বলতে পারেন।

পঞ্চমত, বইয়ের প্রশংসনীয় দিকগুলো বলতে পারেন। কী কারণে লেখক বাহবা পেতে পারেন, কোন কোন বিষয়ের কারণে আপনি সন্তুষ্ট হয়েছেন সেসব লিখতে পারেন। লেখক পাঠককে কতটা আলোড়িত করতে পেরেছেন, কতটা ভাবনার উদ্রেক ঘটাতে পেরেছেন, কতটা আবেগাপ্লুত করতে পেরেছেন?

ষষ্ঠত, বইটি পড়ে আপনার কতটা ভালো লেগেছে, কতটা খারাপ লেগেছে, আপনার উপর কেমন প্রভাব ফেলেছে— সেসব কথা বলতে পারেন। আপনার খুব পছন্দ হয়েছে এমন কোনো উক্তি, ডায়লগ, বা চরিত্র থাকলে সেটাও উল্লেখ করতে পারেন।

সপ্তমত, বইটির অসঙ্গতি তুলে ধরতে পারেন। কোনো তথ্যগত ভুল, প্রসঙ্গগত অমিল, উপস্থাপনের ত্রুটি থাকলে পাঠককে জানিয়ে দিতে পারেন। আপনার কাছে কোনো কিছু উদ্ভট-আজগুবি মনে হলে, পাগলের প্রলাপ মনে হলে, লেখকের উদ্দেশ্যগত অসততা দেখলে সেটার প্রমাণও তুলে ধরতে পারেন।

ভালো রিভিউ কোনটা?

আগেই বলেছি রিভিউয়ের কোনো নির্দিষ্ট মডেল নেই। তাহলে ভালো রিভিউ কোনটা? উত্তর হচ্ছে, আপনার রিভিউয়ে আপনি কতগুলো বিষয় আনতে পেরেছেন। উপরে আমি যে বিষয়গুলো বললাম, এগুলোর বাইরেও কিছু থাকতে পারে। তথ্যগুলোর কোন সিরিয়াল বা ধারাবাহিকতা নেই। আপনি যখন যেভাবে তথ্যের উপস্থাপন উপযোগী মনে করেন সেভাবেই করতে পারেন। এবার দেখা যাবে বই বা লেখকের আলোচনা-সমালোচনা বিষয়ে আপনার দক্ষতার প্রশ্ন। আপনি কতটা গঠনমূলকভাবে এই মতামত ব্যক্ত করতে পেরেছেন, কতটা সুন্দরভাবে আপনার রিভিউটা উপস্থাপন করতে পেরেছেন! আপনার রিভিউ পড়ে পাঠকও রিভিউ করবে তারা কতটা ভালোভাবে জানতে পেরেছে‍!

রিভিউ লিখতে করণীয় কী?

বইটি পড়ার সময় মনোযোগ দিতে হবে। আগে থেকে করা ভালো বা খারাপ ধারণা বাদ দিয়ে খোলা মনে বইকে উপলব্ধির চেষ্টা করতে হবে। পড়তে গিয়ে প্রয়োজনীয় বিষয় নোট করতে হবে অথবা চিহ্নিত করে রাখতে হবে। বইটি লেখক যেভাবে বুঝাতে চেয়েছেন তার ইন্টেশনটা আপনাকে ধরতে পারতে হবে। না বুঝে বা কম বুঝে আন্দাজে তার সমালোচনা করা হবে লেখকের প্রতি অবিচার। সর্বশেষ মনে রাখুন, আপনাকে নির্মোহ হতে হবে। পক্ষপাতিত্ব করা যাবে না। আপনাকে সৎ থাকতে হবে। অযথা প্রশংসা করবেন না, আবার আন্দাজে নিন্দেও করবেন না।

লেখা—তানিম ইশতিয়াক

 

Wednesday, July 11, 2012

বিশ্বব্যাপী ভিন্ন ভিন্ন দিনে ঈদ হওয়া ও.আই.সি -র সিদ্ধান্ত বিরোধী

বিশ্বব্যাপী ভিন্ন ভিন্ন দিনে ঈদ হওয়া ও.আই.সি -র সিদ্ধান্ত বিরোধী




৩০ শে আগস্ট, ২০১১ রাত ২:৪৯

 রোজা কোন সাধারন ইবাদত নয় । এটি ইসলামের স্তম্ভ হওয়ায় এর গুরুত্ব অপরিসীম । ইসলামী পন্জিকার মাসগুলো ২৯ ও ৩০ দিনে হয় । কোনভাবেই ২৮,৩১ ও ৩২ দিনে মাস হওয়ার সুযোগ নেই । কিন্তু বিশ্বব্যাপী রোজার সময় আমরা বিভিন্ন দেশ অনুযায়ী ২৮ ও ৩১ দিনের রমজান মাস হতে দেখি এবং ২৮ হতে ৩১ দিনে রমজান মাস শেষ করে বিশ্বব্যাপী ঈদুল ফিতর চার দিন ধরে পালন করার রেওয়াজ গড়ে ওঠেছে ।


এ বিশৃঙ্খল অবস্হা সম্পর্কে ১৬ অক্টোবর ২০০৬ তারিখে এক প্রেস রিলিজে ৫৭টি দেশ নিয়ে গঠিত ইসলামী সহযোগিতা সংস্হা (ও.আই.সি) –এর মান্যবর মহাসচিব একমেলেদ্দীন ইহসানোগলু বলেন,’’ এবছর (২০০৬) ঈদুল ফিতর ঈদুল ফিতর উদযাপনে সময়ের পার্থক্য ৩ দিন পৌছেছে । আধুনিক বিজ্ঞান বিশেষত: জ্যোতির্বিজ্ঞানের অভাবনীয় অগ্রগতির যুগে এই অবস্হা দু:খজনক । ইসলামী উৎসবগুলোর বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে । এসব উৎসব বিশ্বের সব মুসলিমের হৃদয়ে ঐক্যের বার্তা পৌছে দেয় । এই ঐক্য এসব উৎসবের নির্যাস হিসেবে প্রকাশ পায় । কিন্তু এসব উৎসব বর্তমানে মুসলিমদের মধ্যে ঐক্যের বদলে অনৈক্য ও বিভেদের উপলক্ষ্য হিসেবে উপস্হিত হয়েছে । এতে মুসলিমদের ইতিবাচক ভাবমূর্তি প্রকাশ পাচ্ছে না । এটি একটি বড় ধরনের ভুল । কারণ এসব ধর্মীয় উৎসব ধর্মের বস্তুনিষ্ঠতা থেকে দূরে সরে যেয়ে একঘেয়েমি ও কুপমন্ডুকতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে । এব্যাপারে ইসলামী সম্বেলন সংস্হা (ও.আই.সি) ১৯৮০ -র দশক হতে লিখিতভাবে এবিষয় নিয়ে সোচ্চার । ও.আই.সি এবিষয়ের উপর প্রস্তাব গ্রহণ করেছে এবং বিভিন্ন সম্বেলনে এবিষয়টি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আসছে ।মুসলিম দেশগুলোতে একটি একক ক্যালেন্ডার অবলম্বন করার জন্য হিজরী ক্যালেন্ডারকে ধর্মীয় ও বিজ্ঞানের মুলনীতি প্রয়োগ করে পরিমার্জিত করতে হবে । এব্যাপারে ব্যবস্হা নিতে ইসলামী আইনবিদ্যা কেন্দ্রকে অনুরোদ করছি ।পরিমার্জিত এ হিজরী ক্যালেন্ডার বিশ্বের সব মুসলিমকে রোজা ও অন্যান্য উৎসবগুলোতে ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ করবে । এবিষয়ে বিভক্তি ও অনৈক্য দুর করতে মুসলিম বিশ্বের ধর্মীয় ও নেতৃস্হানীয় কর্তাব্যক্তিদের এক সাথে কাজ করতে আহবান জানাচ্ছি । জেদ্দা : ২৮ অক্টোবর ২০০৬ “ ( দেখুন: 
ও.আই.সি-র ওয়েবসাইট )


বিশ্বব্যাপী চার দিন ধরে মুসলিম উৎসবগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণসমূহ :

 বিশ্বব্যাপী চার দিন ধরে মুসলিম উৎসবগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণসমূহের একটি প্রধান কারণ হলো – হিজরী সন গণনা কৌশলের ভিন্নতা এবং মুসলিম প্রধান ও সংখ্যালঘু মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সমান্নয়হীনতা । দেশ অনুযায়ী হিজরী সন গণণা পদ্ধতির ভিন্নতা রয়েছে । যেমন :

১. দেশের রাজনৈতিক সীমার মধ্যস্হ স্হলভাগে খালি চোখে নতুন চাঁদ দেখার খবর প্রচার করে দেশে হিজরী সনের মাস শুরু করা । যেমন : বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ওমান,মরক্কো এবং ত্রিনিদাদ- টোবাগো ।

 ২.চাঁদের জন্ম ও মক্কায় সূর্যাস্তের পর চাঁদ অস্ত যাওয়ার জ্যোতির্বিজ্ঞানের তথ্য দিয়ে অগ্রিম ক্যালেন্ডার প্রস্তুত করা । বিশষে কোন কারণে কখনো রোজা ও হজের মাস এক দিন এগিয়ে আনা । যেমন : সৌদি আরব ।

৩.সৌদি আরবের ঘোষনা অনুসরন করা । যেমন : কাতার, কুয়েত, আরব আমিরাত, বাহরাইন, ইয়েমেন, আফগানিস্তান, ফিলিস্তিন ।

৪.মাসের ২৯তম দিনে চাঁদের জন্ম ও সূর্যাস্তের ৫মিনিট পর চাঁদ অস্ত গেলে নতুন মাস শুরু করা । যেমন : মিসর ।

৫.পাশবর্তী দেশ হতে মাস শুরু করার খবর সংগ্রহ করা । যেমন : নিউজিল্যান্ড অস্ট্রেলিয়া হতে , মালদ্বীপ শ্রীলন্কা হতে খবর সংগ্রহ করে রোজা ও ঈদ করে ।

৬.বিশ্বে প্রথম মাস শুরুর ঘোষক দেশের অনুসরন করা । যেমন: ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেশগুলো , জ্যামাইকা, বার্বাডোস

৭. চাঁদের বয়স, উচ্চতা, সূর্যাস্ত ও চাঁদ অস্ত যাওয়ার সময়ের ব্যবধান বিবেচনা করে মাস শুরু করা । যেমন: আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া

৮.নিজস্ব ভুখন্ডে ফজরের আগে চাঁদের জন্ম বিবেচনা করে মাস শুরু করা । যেমন: লিবিয়া

৯.চাঁদের বয়স ৮ ঘন্টা, উচ্চতা ২ ডিগ্রী, কৌনিক ব্যবধান ৩ ডিগ্রী এর বেশী হলে মাস শুরু করা । যেমন: মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর 
 
১০. আগেই পাটীগণিতের সুত্র দিয়ে অগ্রীম পন্জিকা বানানো । যেমন : ইসমাইলিয়া ও কাদিয়ানী । মুলত এরা অমুসলিম জাতি । 

১১. আন্তজার্তিক ক্ষেত্রে পরিচিত দুরর্বতী দেশকে অনুসরন । যেমন : মালয়েশিয়াকে জাপান, তাইওয়ান,কোরিয়া, পালাউ অনুসরন করে 

১২. বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মানদন্দ ব্যবহার করা । যেমন: নাইজেরিয়া সহ আফ্রিকার কিছু দেশ । 

১৩. বিশ্বের কোথাও সর্বপ্রথম নতুন চাঁদ দেখার বা তার সম্ভাবনাকে বিবেচনা করা । যেমন: লেবানন 

১৪. ৪৮০ মাইল দূরত্বকে নতুন চাঁদ দেখার ভিন্ন উদয় অঞ্চল বিবেচনা করে খালি চোখে নতুন চাঁদ দেখে একই দেশে দুই দিন মাস শুরু করা । যেমন: ভারতের পশ্চিম বাংলা, ত্রিপুরা, মনিপুর, গুজরাট সহ বিভিন্ন প্রদেশ ।

১৫.বিশ্বের কোথাও সর্বপ্রথম চাঁদের জন্ম এবং মক্কার সূর্যাস্তের পর চাঁদের অস্ত যাওয়ার মাধ্যমে মাস শুরু করার ঘোষনা করা । এ পদ্ধতিতে বিশ্বের কোথাও না কোথাও নতুন চাঁদ দেখার সম্ভাবনাকে বিবেচনা করা হয় তা খালি চোখেই হোক বা শক্তিশালী দুরবীন দিয়েই হোক। যেমন: আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ইসলামী আইনবিদ পরিষদ এবং ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অব ফাতওয়া এন্ড রিচার্সের নিয়ন্ত্রনাধীন এলাকা ও দেশসমূহ । (দেখুন: http://www.moonsighting.com/methods.html ) 

এধরনের ভিন্ন ভিন্ন মানদন্দের ভিত্তিতে মাস শুরুর করায় মুসলিম বিশ্বে বিচ্ছিন্নতা ও অনৈক্য তৈরী হয়েছে এবং ধর্মীয় উৎসবগুলো সার্বজনীনতা ও ধর্মীয় তাৎপর্য হারাচ্ছে । এঅবস্হা এক সময় অন্যান্য ধর্মানুসারীদের ক্ষেত্রেও ঘটেছিল ।কিন্তু তারা এঅবস্হা কাটিয়ে ওঠেছে । যেমন : খ্রীষ্টাব্দকে জুলিয়াস সিজার ও পোপ গ্রেগরী সংস্কার সাধন করলেও দেশ অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন তারিখ ব্যবহার হতো । ১৮৮৪ সালে এক আন্তজার্তিক সম্বেলনের মাধ্যমে খ্রীষ্টাব্দকে পরিমার্জিত করা হয় ।


সারা বিশ্বে একই দিনে ঈদ করার বিষয়ে ও.আই.সি এর বিভিন্ন প্রস্তাবএবং সিদ্ধান্ত নিয়েছে । দেখুন http://www.oic-oci.org/home.asp ( ও.আই.সি-র ওয়েব সাইট ) ‌ ও.আই.সি ( ইসলামী সহযোগিতা সংস্হা ) - র অন্তর্ভুক্ত সদস্য দেশগুলোর পররাস্ট্র মন্ত্রীদের সম্বেলনে সারা বিশ্বে একই দিনে ঈদ করার জন্য গ্রহন করা প্রস্তাবের লিংক দেওয়া হল :

1. http://www.oic-oci.org/english/conf/fm/11/11 icfm-cultural-en.htm RESOLUTION No. 14/11-C ON THE DRAWING UP OF A UNIFORM LUNAR CALENDAR

2. http://www.oic-oci.org/english/conf/fm/12/12 icfm-cultural-en.htm RESOLUTION NO. 8/12-C THE ESTABLISHMENT OF A CALENDAR OF LUNAR MONTHS AND MUSLIM HOLIDAYS

3. http://www.oic-oci.org/english/conf/fm/13/13 icfm-cultural-en.htm RESOLUTION NO. 11/13-C ESTABLISHMENT OF A CALENDAR FOR THE BEGINNING OF LUNAR MONTHS AND UNIFICATION OF ISLAMIC HOLIDAYS

4. http://www.oic-oci.org/english/conf/fm/14/14 icfm-cult-en.htm RESOLUTION NO. 19/14-C ON THE STANDARDIZATION OF LUNAR MONTHS AND ISLAMIC HOLIDAYS

5. http://www.oic-oci.org/english/conf/fm/15/15 icfm-cult-en.htm RESOLUTION NO.17/15-C ON THE UNIFICATION OF THE BEGINNING OF LUNAR MONTHS AND ISLAMIC HOLIDAYS

6. http://www.oic-oci.org/english/conf/fm/16/16 icfm-cult-en.htm RESOLUTION NO.13/16-C THE UNIFIED HIJRI CALENDAR FOR THE BEGINNING OF LUNAR MONTHS AND THE UNIFICATION OF ISLAMIC FESTIVALS

7. http://www.oic-oci.org/english/conf/fm/17/17 icfm-cult-en.htm RESOLUTION NO. 16/17-C ON THE UNIFIED HEJIRA CALENDAR FOR THE BEGINNING OF LUNAR MONTH AND THE UNIFICATION OF ISLAMIC FESTIVALS

8. http://www.oic-oci.org/english/conf/fm/18/18 icfm-cult-en.htm RESOLUTION 18/18-C ON THE UNIFIED HIJRI CALENDAR FOR THE BEGINNING OF LUNAR MONTHS AND THE UNIFICATION OF ISLAMIC FESTIVALS

9. http://www.oic-oci.org/english/conf/fm/19/19 icfm-cult-en.htm RESOLUTION NO. 24/19-C ON THE UNIFIED HIJRI CALENDAR FOR THE BEGINNING OF LUNAR MONTHS AND THE UNIFICATION OF ISLAMIC FESTIVALS

10. ISTANBUL, REPUBLIC OF TURKEY 24-28 MUHARRAM 1412H, 4-8 AUGUST 1991

11. Click This Link resolution.htm RESOLUTION NO.12/21-C UNIFIED HIJRI CALENDAR FOR THE BEGINNING OF LUNAR MONTHS AND THE UNIFICATION OF ISLAMIC FESTIVALS

12. Click This Link RESOLUTION NO.13/22-C ON THE UNIFIED HIJRI CALENDAR FOR THE BEGINNING OF LUNAR MONTHS AND THE UNIFICATION OF ISLAMIC HOLIDAYS

13. Click This Link RESOLUTION NO.15/23-C ON THE UNIFIED HIJRI CALENDAR FOR THE BEGINNING OF LUNAR MONTH AND THE UNIFICATION OF ISLAMIC HOLIDAYS

14. Click This Link RESOLUTION NO.16/24-C ON THE UNIFIED HIJRI CALENDAR FOR THE BEGINNING OF LUNAR MONTH AND THE UNIFICATION OF ISLAMIC HOLIDAYS

15. Click This Link Resolution No. 16/25-C on the Unified Hijri Calendar for the Beginning of Lunar Months and the Unification of Islamic Holidays.

16.http://www.oic-oci.org/english/conf/fm/26/Resolutions26-C.htm Resolution No. 18/26C On the Unified Hijri Calendar for the Beginning of Lunar Months and the Unification of Islamic Holidays.

17.http://www.oic-oci.org/english/conf/fm/27/27th-fm-cultural.htm RESOLUTION NO. 18/27-C On the Unified Hijri Calendar for the Beginning of Lunar Months and the Unification of Islamic Holidays.

18.http://www.oic-oci.org/english/conf/fm/28/28-ICFM-CS1-en.htm Resolution No. 4/28-C On the Unified Hijri Calendar for the Beginning of Lunar Months and the Unification of Islamic Holidays.

19.http://www.oic-oci.org/english/conf/fm/29/29%20icfm-cult-e.htm Resolution No. 4/29-C On the Unified Hijri Calendar for the Beginning of Lunar Months and the Unification of Islamic Holidays.

20.http://www.oic-oci.org/english/conf/fm/30/30%20icfm-cul1-e.htm RESOLUTION NO. 4/30-C On the Unified Hijri Calendar for the Beginning of Lunar Months and the Unification of Islamic Holidays.

21.http://www.oic-oci.org/english/conf/fm/31/31%20icfm-main-e.htm ISTANBUL, REPUBLIC OF TURKEY 26-28 RABIUL THANI 1425H (14-16 JUNE 2004)

 22. Click This Link Page no: 7 The unified Hijri calendar for the beginnings of the Lunar Months and the Unification of Islamic Holidays.

23. Click This Link RESOLUTION NO. 1/33-C ON GENERAL CULTURAL MATTERS D) The Unified Hijri Calendar of the Islamic Holidays

24.http://www.oic-oci.org/34icfm/english/resolution/34ICFM--CS-RES-FINAL-ENG.pdf Page no: 3 The Unified Hijri Calendar

25.http://www.oic-oci.org/35cfm/english/res/35-CFM-RES-CUL-FINAL.pdf Page no: 6 The Unified Hijri Calendar

26.http://www.oic-oci.org/36cfm/w/en/res/36CFM-CS-RES-FINAL.pdf Page no: 4 The Unified Hijri Calendar

 27. Click This Link Resolution on The Unified Hijri Calendar : page no:7 28.http://www.oic-oci.org/38cfm/en/documents/res/CUL-RES-38-CFM-FINAL-2.pdf Resolution on The Unified Hijri Calendar . Page no: 6

 ও.আই.সি ( ইসলামী সহযোগিতা সংস্হা ) - র অন্তর্ভুক্ত সদস্য দেশগুলোর রাস্ট্র প্রধানদের নিয়ে করা ইসলামী সম্বেলনে সারা বিশ্বে একই দিনে ঈদ করার জন্য গ্রহন করা প্রস্তাবের লিংক দেওয়া হল :

1. Click This Link DOHA - STATE OF QATAR 16-17 SHABAN, 1421H 12-13 NOVEMBER, 2000 RESOLUTION NO. 18/9-C (IS) ON THE UNIFIED HIJRI CALENDAR FOR THE BEGINNINGS OF LUNAR MONTHS AND THE UNIFICATION OF ISLAMIC HOLIDAYS

2. Click This Link PUTRAJAYA, MALAYSIA 20-21 SHA’BAN 1424H 16-17 OCTOBER 2003 d) THE UNIFIED HIJRI CALENDAR FOR THE BEGINNINGS OF LUNAR MONTHS AND THE UNIFICATION OF ISLAMIC HOLIDAYS 3. Click This Link DAKAR,SENEGAL 6-7 Rabiulawal 1429 H (13-14 March 2008) The unified hijri calendar, page 3


অর্থাৎ ও.আই সি তার প্রতিস্ঠার পর হতে সারা বিশ্বে একই দিনে ঈদ করা এবং হিজরী সনকে সদস্য দেশগুলোতে সার্বজনীনভাবে ব্যবহার করার জন্য এর্যন্ত ৩১ বার প্রস্তাব গ্রহণ করেছে । 

এজন্য এবিষয়ে ও.আই.সি ইসলামী আইনবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী , তথ্য প্রযুক্তিবিদ, আবহাওয়াবিদ এবং গণিতবিদদের নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে । 

এতে বাংলাদেশ জোড়ালো ভুমিকা পালন করেছে যার কারণ আমরা দেখি ১৯৮৩ সালের ৬ হতে ১১ ডিসেম্বর বাংলাদেশে ও.আই.সি-র সব সদস্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ১৪ তম সম্বেলনে বাংলাদেশে একটা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বানানোর প্রস্তাব ( বর্তমানে এটি ও.আই.সি বানিয়ে ফেলেছে , দেখুন http://www.iutoic-dhaka.edu/ ) এবং সারা বিশ্বে একই দিনে ঈদ ও হিজরী ক্যালেন্ডার ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয় ( RESOLUTION NO. 19/14-C THE STANDARDIZATION OF LUNAR MONTHS AND ISLAMIC HOLIDAYS দেখুন : Click This Link NO. 19/14-C) ।

সুতরাং এক্ষেত্রে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রশংসনীয় ভুমিকা রাখছে । বিশ্বের ৫৭টি মুসলিম দেশ এবং সকল মুসলিমের প্রতিনিধিত্বকারী বিশ্ব মুসলিম সংগঠন ও, আই, সি-এর ফিকহ একাডেমী ১৯৮৬ সনের ১১-১৬ অক্টোবর জর্ডানের রাজধানী আম্মানে অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনে শতাধিক শরীয়াহ্‌ বিশেষজ্ঞের সর্ব সম্মতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, “বিশ্বের কোন এক দেশে চাঁদ দেখা গেলে সকল মুসলিমকে ঐ দেখার ভিত্তিতেই আমল করতে হবে।”



জ্যোতিষ শাস্ত্র, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ

জ্যোতিষ শাস্ত্র, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ



[ আমি এ নিবন্ধটি লিখেছিলাম ২০০৫ সালে বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল এসোসিয়েশনের ওয়ার্কশপের জন্য । এটি লিখতে মহাকাশ বার্তার বিভিন্ন সংখ্যা, বাংলাদেশের বিজ্ঞান চিন্তা, মহাবিশ্ব, Cosmos, Astronomy for kids প্রভৃতি বইয়ের সাহায্য নিয়েছি । বাংলাদেশ ন্যাশনাল আর্কাইভসে রক্ষিত বিশ্বকোষগুলোরও সাহায্য নিয়েছি । অনেকের কাছে বেশ কিছু অংশ কপি পেস্ট মনে হতে পারে । এক্ষেত্রে আমার অভিমত, এক্ষেত্রে আমি গবেষক না । গবেষণা করে এক্ষেত্রে নতুন তথ্য বা তত্ত্ব দিতে আমি অক্ষম । ]


 প্রাচীনকালে পুরোহিতদের মধ্যে সব ধরনের জ্ঞান-চর্চা সীমাবদ্ধ ছিল। জ্যোতিষশাস্ত্রও ঠিক তেমনি পুরোহিতদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। সুদীর্ঘ কাল ধরে প্রাচীন ইরাকী পুরোহিতদের আকাশমন্ডল পর্যবেক্ষন থেকেজ্যোতিষ-চর্চার সূত্রপাত হয় । আজ যে স্থানে আধুনিক ইরাক সেখানে গড়ে উঠেছিল সুমের, ব্যাবিলন, ক্যালডিয়া আর মেসোপটেমিয়া নামের বিভিন্ন দেশ। আর এসব দেশে আজ থেকে পাঁচ হাজার বছর আগে জ্যোতিষশাস্ত্রের উদ্ভব।


আড়াই হাজার বছর আগে গ্রীকরা জ্যোতিষ শাস্ত্রকে বিভিন্ন বিধিবদ্ধ নিয়মের অধীনে আনেন। তাঁরা তারার জগতে সূর্যের আবর্তনের পথকে বারটি ভাগে ভাগ করে বিভিন্ন দেব-দেবী ও বিমূর্ত-মূর্ত প্রানীদের নামে নামকরণ করেন। প্রথমে জ্যোতিষ শাস্ত্র রাজদরবারের বিষয়বস্তু হলেও পরে তা জনসাধারনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। মানুষের বিশ্বাস ও ধর্মীয় অনুভুতির সুযোগ ব্যবহার করে জ্যোতিষরা তাঁদের কল্পনাকে আকাশের ঘটনার সাথে পৃথিবীর ঘটনার সাথে মিলাতে থাকলেন। কারণ প্রাচীন কালের মানুষের বিশ্বাস ছিল দেব-দেবীদের নিয়ে সৃষ্টিকর্তা তাঁর স্বর্গে অবস্থান করছেন। আর দেব-দেবীরা সৃষ্টিকর্তার আদেশে তারার জগতে অবস্থান করছেন। যখন কোন আকাশে বিরল জ্যোতিস্ক আর্বিভূত হতো অথবা ঘটতো সূর্য গ্রহন ও চন্দ্র গ্রহন,তখন এসব দূর্লভ ঘটনাকে জ্যোতিষরা মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে বলা শুরু করতো সৃষ্টিকর্তা বা কোন নির্দিষ্ট দেব-দেবী মানব জাতির প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছেন,ঘনীয়ে আসছে বিভিন্ন দুর্যোগ। এসব শুনে মানুষ ভীষন ভয় পেতো। আর রাজ-রাজারা তাদের প্রভাব বলয় অনুকুলে রাখার জন্য জ্যোতিষ আর ধর্মজীবিদের পৃষ্টপোষকতাই করতেন না বরং তাঁদের রাজকীয় পদ দিয়ে সম্মানিত করতেন।



‘‘জ্যোতিষ শাস্ত্র কি বিজ্ঞান?” এ প্রশ্ন যেমন আগেও ছিল এই একবিংশ শতাব্দীতে আছে। বিজ্ঞান পরীক্ষা-নিরীক্ষা, তত্ত্ব উপাত্তের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিজ্ঞান পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রহস্য উম্মোচন করে। বিজ্ঞানের বিভিন্ন পর্যায়কে ভাগ করলে যে আটটি ধাপ পাওয়া যায় ।


সেগুলো হলোঃ
(১) পর্যবেক্ষন, (২) তুলনাকরন, (৩) শ্রেনীকরন, (৪) পরিমান নির্ধারন, (৫) পরিমাপন, (৬) পরীক্ষা-নিরীক্ষা, (৭) সিদ্ধান্ত গ্রহন ও (৮) ভবিষ্যদ্বানী করণ।

জ্যোতিষ শাস্ত্র বিজ্ঞানের এসব পর্যায় অবলম্বন করে গড়ে ওঠেনি বলে জ্যোতিষ শাস্ত্র বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত নয় ।

জ্যোতির্বিজ্ঞান (Astronomy) হতে জ্যোতিষ শাস্ত্র মূলত উদ্ভব হয়েছে । আকাশের জ্যোতিষ্কসমূহের অবস্থান, তাদের গতিবিধি এবং তাদের প্রকৃতি সম্পর্কে জানার বিজ্ঞানকে জোতির্বিজ্ঞান বলা হয়। বর্তমানে জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত।


কোন গ্রহ-নক্ষত্র অপরটি হতে কত দূরে তা জানার জন্য জ্যোতির্বিজ্ঞানের যে শাখা আছে, তাকে বলা হয় ‘‘গানিতিক ও জোতিষ্ক জ্যোতির্বিজ্ঞান” (Mathematical and Spherical Astronomy)। গ্রহ-নক্ষত্র কিভাবে তৈরী হয়েছে তা জানার বিজ্ঞানকে বলা হয় জ্যোতিঃ পদার্থ বিদ্যা (Astrophysics)। মহাকাশে যাতায়াত করার বিদ্যাকে বলা হয় মহাকাশ যাত্রা বিদ্যা ।


মহাকাশযান বা এ সম্পর্কিত প্রযুক্তিগত বিদ্যাকে বলা হয় এরোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং। cosmology এতসব বিজ্ঞানের শাখার সাথে গণিত ও আধুনিক তথ্য-যোগাযোগ প্রযুক্তির সাথে জ্যোতির্বিজ্ঞানের নিবিড় সম্পর্ক আছে।

পূর্বেই বলেছি, মানুষের হাত দেখা, জন্মলগ্ন এবং হাব-ভাব দেখে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বলে দেওয়া ও এ সম্পর্কিত দিক নির্দেশনা দেওয়ার বিদ্যা জোতিষ শাস্ত্র ( Astrology) বিজ্ঞানের বিষয় নয় । যারা মানুষের হাত দেখেন তাদের বলা হয় গণক বা জোতিষী (Astrologer)।

 অপরদিকে গ্রহ, উপগ্রহ ও নক্ষত্র নিয়ে হাতে-কলমে পরীক্ষা- নিরীক্ষা করেন, তাদের বলা হয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী ( Astronomer)। অনেক জ্যোতিষী বা ভাগ্যগননাবিদ বলে থাকেন তারা গ্রহ-নক্ষত্রের চর্চা করে ভাগ্য গননা করেন। এ কথার সম্পূর্ন ভিত্তিহীন। কারন রাশিফল ব্যাখ্যা করার সময়ই কতকগুলো গ্রহ-নক্ষত্রের গতিবিধির কাল্পনিক হিসাব বলা হয়। এদের মধ্যে রবি (সূর্য) এবং সোম (চাঁদ)-কে গ্রহ ধরা হয়েছে। তাছাড়া রাহু ও কেতু নামের আরও দুটি গ্রহ কল্পনা করা হয়। আর ভাগ্যগননাবিদরা কল্পনা করেন, পৃথিবীকে কেন্দ্র করে সূর্য ও অন্যান্য গ্রহ-নক্ষত্ররা ঘুরছে। সুতরাং ভাগ্য গননা বা জোতিষ শাস্ত্রের সাথে বিজ্ঞানের নূন্যতম সম্পর্ক থাকা দূরে থাক তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির সাথে সম্পর্কের প্রশ্নই আসে না।

বর্তমানে অনেক জোতিষী কম্পিউটারের মাধ্যমে নির্ভুলভাবে ভাগ্য গননার কথা বলে থাকেন যা এক ধরনের প্রতারনা ছাড়া আর কিছুই নয়। তবে এক শ্রেনীর মানুষের কাছে ভাগ্যগননা বিদ্যা চাঁদে যাওয়ার বিদ্যার চাইতে অনেক বেশী জনপ্রিয়। এসব মানুষের জীবনে হতাশা ও নিজেদের সাফল্যের ব্যাপারে আস্থাহীনতা ও বিজ্ঞানমনস্কতার অভাব রয়েছে। এজন্য তারা ভাগ্য গননাবিদদের দারস্থ হয়।

অপরদিকে জ্যোতির্বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সবচেয়ে জটিল ও কঠিনতম বিষয়। জ্যোতির্বিজ্ঞান বরাবরই ব্যয় বহুল। চাঁদে অভিযানের প্রকল্প পরিচালনায় খরচ হয়েছিল দুইশত কোটি ডলারের বেশী অর্থ যা বাংলাদেশের তৎকালীন বাজেটের বিশ গুন।

জ্যোতির্বিজ্ঞান জ্যোতিষ শাস্ত্র অপেক্ষা কম জনপ্রিয় হওয়ায় আরোও একটি বড় কারন হলো গনমাধ্যম এবং ধর্মজীবিদের ভ্রান্ত ও যুক্তিহীন কর্মতৎপরতা। এ ধরনের একটা ঘটনার মাধ্যমে এদিকটা স্পষ্ট বোঝা যায়। ১৯৬৯সালের জুলাই মাসে মানুষ চাঁদে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল এবং এক সময় (২১শে জুলাই) তা সাফল্যজনকভাবে শেষ হয়, তখন বাংলাদেশের কিছু ধর্মজীবি বলেছিলেন,‘‘ওরা চাঁদে যায়নি। কোথা থেকে ঘুরে এসে কয়েকটা পাথর নিয়ে এসে বলছে চাঁদ থেকে ঘুরে এসেছি। ভেল্কিবাজি আর কাকে বলে। চাঁদে যাওয়া সম্ভব নয়।” ১৯৬৯সালে আমেরিকান দূতাবাসসমূহ বিভিন্ন দেশে চাঁদ থেকে সংগ্রহ করা পাথর ও মাটি প্রদর্শন করা এবং চাঁদে অভিযানকারীদের কার্যক্রম দেখানোর প্রক্রিয়া সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে তারা একথাগুলো বলেন। বরাবরই গণমাধ্যম বির্তক ও দ্বিধা- দ্বন্দ জিইয়ে রাখতে পছন্দ করে বলে তাদের কথাগুলোই গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হয়েছিল । এসব ধর্মজীবিদের মতে ‘‘জোর্তিবিজ্ঞান ও জোতিষশাস্ত্র অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। এ দুই বিদ্যা মানুষের মনে উম্মাদনা জাগিয়ে ধর্ম বিশ্বাসকে দূর্বল করে ফেলে। আর বেঁচে থাকার জন্য এ পৃথিবীই যথেষ্ট। পৃথিবীর বাহিরে কেন তৎপড়তা ? তাতে মানুষের কি কল্যান আছে ? ”


বিজ্ঞান চায় রহস্যের পূর্ন সমাধান। বিজ্ঞানের মৌলিক গবেষনা সব সময়ই ব্যয়বহুল হলেও এক সময় তার ফলাফল জনগনের দোড় গোড়ার পৌছে যায়। এর সফলতা ভোগ করে জনগনই। অতীতকাল হতেই জ্যোতিষীদের ভবিষ্যদ্বানী ও তৎপরতা অনেক লোকই স্বাভাবিকভাবে নিতো না। আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে গ্রীসে এপিকুরিয়ান নামে একদল পন্ডিত জোতিষ্ক শাস্ত্র মানতেন না। তারা বলতেন আকাশের গ্রহ-নক্ষত্রের গতি প্রাকৃতিক নিয়মেই ঘটে। এতে দেব-দেবীদের খেয়াল-খুশির কোন সম্পর্ক নেই।

জ্যোতিষ শাস্ত্রের জোড়লো বিরোধীতা চোখে পড়ে ইহুদী ও ইসলাম ধর্মে। এ দুই ধর্মের সৃষ্টি জগতে জ্ঞাত ও অজ্ঞাত সকল বস্তু ও বিষয়ের সৃষ্টিকর্তার প্রতি দ্বিধাহীন আনুগত্যের কথা আছে ; আর আছে ভাল-মন্দ সব কিছু সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে হয়। আর এজন্য অনেক মুসলিম বিজ্ঞানীদের দেখা যায় জ্যোতিষ শাস্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে।

আজ থেকে প্রায় হাজার বছর আগে আলবেরুনী (৯৭০-১০৪৮ খৃ.) জোতিষ শাস্ত্রের বিরুদ্ধে বই লিখেন। তাঁর এ ধরনের একটি বইয়ের নাম ছিল ‘‘জোতিষীদের মিথ্যা ভবিষ্যদ্বানীর বিরুদ্ধে সতর্কবানী”। তাতে তিনি দেখান যে, জ্যোতিষীরা গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থানের ভিত্তিতে ভাগ্য নির্নয়ের দাবী করলেও তাদের বিভিন্ন ভবিষ্যদ্বানী অনেক ক্ষেত্রেই পরস্পর বিরোধী।

জ্যোতিষীরা ভাগ্য গননার জন্য তৈরী করেছেন রাশিচক্র। রাশিচক্র একটি চক্রাকার চিত্র, যাতে বিশেষ কোন দিনে তারা মন্ডলের পটভূমিতে দেখানো হয় বিভিন্ন গ্রহ, সূর্য ও চাঁদের অবস্থান। এই অবস্থান অনুসারে নেওয়া হয় ভাগ্য গননার সিদ্ধান্ত। পশ্চিমা বিশ্বে শুক্র (ভেনাস)-কে প্রেমের দেবী, তাই যদি শুক্র যদি রাশি চক্রে বিশেষ স্থানে থাকে, তাহলে জ্যোতিষীরা বলে থাকেন জাতকের উপর প্রেম ভর করেছে। অপর দিকে ভারতীয় পুরান শুক্র অসুরদের গুরু, তাই ভারতীয় মতে জ্যোতিষীরা বলে থাকেন জাতকের উপর প্রেমের বদলে হিংস্রতা ভর করেছে। কোন ব্যক্তি পশ্চিমা দেশের রাশিচক্র অনুসারে ভুগবে প্রেমে এবং ভারতীয় মতে হিংস্রতায় মেতে উঠবে; যা পরস্পর বিরোধী। জাতকের গ্রহ-নক্ষত্রের প্রভাব আগে থেকেই প্রাচীন জ্যোতিষীরা স্থির করে গিয়েছেন। এখনও জ্যোতিষীরা অনুসরন করেন তাঁদের প্রাচীন নিয়ম। প্রাচীন জ্যোতিষীরা চার হাজার বছর আগে তারার পটভূমিতে সূর্যের পথ অনুসারে রাশিচক্রে স্থির করেছেন বারটি রাশি। তাদের মতে সূর্য হয় বারটি তারা মন্ডলের ভেতর দিয়ে ভ্রমন করে তাদের বলা হয় রাশি। তারা প্রত্যেক রাশিকে একেক বৈশিষ্ট্যপূর্ন বলে মনে করেন এবং এতে জাতকের উপর পড়ে বিশেষ প্রভাব। বাস্তবে সূর্য রাশিচক্রের তারাদের ভেতর দিয়ে ভ্রমন করে না এবং প্রাচীন জ্যোতিষীদের মত অনুযায়ী সূর্য চিরকাল একই রাশিতে উদিত হয় না।


 খ্রিষ্ঠপূর্ব ১৮৬৭ অব্দে ২১ মার্চে (বসন্ত বিষুব) সূর্য আকাশ গোলকের বিষুবরেখা পেরিয়ে উত্তর গোলার্ধের যে স্থানে প্রবেশ করে সেস্থানে ছিলেন মেষ রাশি। তাই ২১ মার্চ হতে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে যারা জন্মে তারা মেষ রাশির জাতক-জাতিকা। তখনকার দিনের জ্যোতিষরা মনে করতেন সূর্য চিরকাল এ সময় মেষ রাশিতে থাকবে। বর্তমানে সূর্য ২১ মার্চে মেষ রাশি নেই। কারন পৃথিবীর অভিমুখ বদল হয় বলে এ অবস্থা হয়েছে। প্রতি ২৬০০০ (ছাব্বিশ হাজার) বছর পর পর সূর্য পূর্বের রাশিতে আগমন করে। আর এ কারনে ধ্রবতারাও বদল হয়। খ্রি.পূ. ১২৫০০ অব্দে সূর্য ছিল কন্যা রাশিতে আর এখন তা আছে মীন রাশিতে। সুতরাং এখন রাশিচক্রের রাশির সাথে সূর্যের রাশির কোন মিল নেই। তাই এখনও ২১মার্চ-১৯এপ্রিলে যাদের জন্ম তারা মেষ রাশির। যদিও সূর্যের অবস্থান এখন অন্য কোন রাশিতে। সুতরাং আমাদের দেখা আকাশের সাথে জ্যোতিষ শাস্ত্রের কোন সম্পর্ক নেই।

জ্যোতিষীদের ভবিষ্যদ্বানী অধিকাংশ সময় মিথ্যা প্রমানিত হয় বলে এখন তারা জাতক- জাতিকাদের ভাগ্য ও শুভ - অশুভ সম্পর্কে না বলে পূর্বাভাস ও হিতোপদেশ দেন। তার সবচেয়ে বড় প্রমান বাংলাদেশের বাংলা দৈনিক গুলোর প্রতিদিনের রাশিফল। জোতিষীদের ভবিষ্যদ্বানী জাতক-জাতিকাদের থেকে আরোও বড় এলাকায় বারবার ব্যর্থ হয়েছে । বিংশ শতাব্দীতে ১৯৮২ এবং ১৯৯৮ সালে গ্রহগুলো একই রেখায় যুক্ত হওয়ায় জোতিষীরা বলেছিলো ভূমিকম্প ও প্রাকৃতিক দূর্যোগ পৃথিবী জুড়ে দেখা দিবে। এ ধরনের বিপর্যয়ই যেসব বছর ঘটেনি। কোন এক সময় প্রাচীন জ্যোতিষীরা দেখেছিল আকাশে লুব্ধক একটা নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকলে বর্ষাকাল আসবে। কিন্তু পৃথিবীর কক্ষপথে আবর্তনের কারনে বর্ষা আসে । আগের দিনের মানুষেরা একটি ঘটনার পর আরেকটি ঘটনা ঘটতে দেখলে তাদের সম্পর্কিত করতো, খোঁজতো তাদের মধ্যকার সম্পর্ক । মনে করতো আগেরটির জন্যই এই ঘটনাটি ঘটেছে। জ্যোতিষ শাস্ত্র এভাবেই তৈরী হয়েছে।


আকাশ আজ আর মানুষের কাছে রহস্যময় বিষয় নয়। শক্তিশালী দূরবীক্ষন যন্ত্র এবং মহাকাশে অভিযান আকাশের রহস্য উম্মোচন করলেও জ্যোতিষীদের এ ব্যাপারে কোন দুশ্চিন্তা নেই। এতে জ্যোতিষ শাস্ত্রের জনপ্রিয়তাও কমছে না। এতে আমার মনে হয় মানুষকে দোষ দেওয়া যায় না। অজ্ঞনতা, বিজ্ঞানমনস্কতা, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিমন্ডলের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটাতে পারলেই জ্যোতিষ শাস্ত্রের প্রতি মানুষের আকর্ষন কমে যাবে। আর জ্যোতির্বিদ্যার চর্চা সমাজের দোড়গোড়ায় পৌছে দিতে হবে। তাহলেই আমরা আলোকিত ও বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ পাবে।