Showing posts with label শিক্ষা-বিনোদন. Show all posts
Showing posts with label শিক্ষা-বিনোদন. Show all posts

Sunday, January 26, 2025

পথতরু শহরে পরিকল্পিতভাবে লাগাতে হবে

পথতরু শহরে পরিকল্পিতভাবে লাগাতে হবে



পথতরু শহরে ছায়ার জন্য, সৌন্দর্যের জন্য লাগান হয়। পথতরু হিসেবে আমরা ফুলের গছের দিকে আকৃষ্ট হই। বেশি পাতা আছে, অক্সিজেন দেয়, কার্বডাই অক্সাইড শোষন করে এমন গাছই লাগানো হয়। 

শহরে ফলের গাছ লাগানো উচিত একটু চিন্তা করে। কিন্তু আমাদের নজর থাকে ফুলের দিকে। যাতে শহরে নানা রকম ফুল ফোটে। কিন্তু আমাদের শহরে যে অবস্থা। এতসব বাড়িঘর! তার মধ্যে গাছ খুবই কম। 

মহাসড়কে এমন গাছ লাগাতে হবে যেটা পাশে ছড়াবেনা, সোজা হয়ে থাকবে। অক্সিজেন দিবে, কার্বনডাই অক্সাইড শোষণ করবে। বাতাস ঠান্ডা রাখবে। এখানে ভেষজ গাছ লাগানো যেতে পারে।


হাইওয়ে বা মহাসড়ক যাদের মাঝখানে অনেক জায়গা  আছে। এখানে আজেবাজে যত গাছ, ছোট গাছ, মেজো গাছ দুনিয়ার জঞ্জাল করে রেখেছে। এটা একটা স্পেস, এটা সাজানোর জন্য পরিকল্পনা থাকা উচিত। মহাসড়কের ওপর রোদ থাকতে হবে, এখানে ছায়া থাকবেনা। মহাসড়কে এমন গাছ লাগতে হবে যাতে ছায়া না দেয়। বড় বড় রেইনটি লাগালে বড় হলে ডালা ভেঙ্গে পরলে অনেক সমস্যা।


জাতীয় সংসদ ভবনের পাশে খেজুর বাগান নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলে। এগুলা আসলে আমাদের দেশের খেজুর। এটা আমাদের গাছ। এটা আরবের গাছ না। আরবের খেজুর আমাদের দেশে ফল ধরেনা। আমরা খেজুরকে ভাবি মরুভূমির গাছ। এটা ঠিকনা। তাল, খেজুর, নারকেল এগুলোসব আমাদের গাছ। এগুলো অবস্থা বিবেচনা করে যেখানে খুশি সেখানে লাগান যায়।
 
বজ্রপাত হয়ে মানুষের  মারা বন্ধ করার জন্য তাল গাছ লাগানো হচ্ছে। তাল গাছ উপরে থাকে, উপরেই বিদুৎ ধরে ফেলে। সে বিদ্যুৎ গাছের ভিতর দিয়ে মাটিতে চলে যায়। বজ্রপাতের বিদ্যুৎ পৃথিবীতে নামার জন্য কন্ডাকটার খোজে। মানুষ ভাল কনন্ডাকটার। মানুষের ভিতর নামতে গিয়ে মানুষের জীবন শেষ করে। 

আমাদের শহরে গাছ লাগাতে কোন পরিকল্পনা নাই। এ ক্ষেত্রে যার যা ইচ্ছা তা করছে। মিড আইল্যান্ড বা রাস্তার মাঝখানে গাছ লাগানোর কথা না। রাস্তার মাঝখানে নানা রকম ভৌত কাঠামো দিয়ে সাজাতে পারে। অথবা শুধু ঘাস থাকতে পারে, ছোট ছোট গাছ থাকতে পারে। রাস্তার দুই পাশে থাকে বড় গাছ। যাতে রাস্তায় ছায়া হয়। আমাদের শহরে দুই পাশ বন্ধ, গাছ লাগানোর কোন জায়গা রাখেনা। গাছ লাগানোর কোন স্কোপও রাখেনা। এইটাতো বিরাট সমস্যা। 

কোন কোনা জায়গায় রাস্তার দুই পাশে কিছু গাছ আছে। কিন্তু ঐগাছ বড় হবেনা। কারন গাছগুলোর শিকড় নিচে যেতে পারবেনা। সিমেন্ট দিয়ে সব আটকান। খাদ্য সংগ্রহ করতে পারবেনা। রাস্তার পাশের গাছ নিয়ে বিপদ অনেক। এই গাছগুলো দেখার কেউ নেই। যার কারনে গাছ ভেঙ্গে পড়ে মানুষকে প্রাণ দিতে হচ্ছে। 

বিদেশে প্রত্যেক এরিয়ার জন্য একজন গাছের ডাক্তার থাকে। তার কাজ হচ্ছে ঘুরে ঘুরে প্রত্যেকটা গাছ গিয়ে দেখবে। গাছে খোড়ল হচ্ছে কিনা,  সেটা সিমেন্ট দিয়ে বন্ধ করতে হয়। ক্ষত হচ্ছে কিনা, ক্ষত হলে চিকিৎসা করতে হয় এন্টিবায়োটিক দিয়ে। গাছের কোন ডাল কাটতে হলে তা কেটে সেপ সুন্দর করা ইত্যাদি করে থাকেন।। আমাদের এ বিদ্যাটাও নাই, চর্চাও নাই, ভাবনাও নাই। ফলে গাছে বড় বড় গর্ত হচ্ছে, রাস্তার পাশের গাছ উপরে পড়ছে। 


বিদেশি গাছের অপকারী দিক

বিদেশি গাছের অপকারী দিক


 
ইউক্লিপটাস, শিশু, মেহগনি, রেইন ট্রি গাছগুলোকে  অত্যধিক পানি শোষণ করে জমি শুকিয়ে ফেলে। শিকড় গভীরে প্রোথিত না হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে আশপাশে অন্য গাছপালা জন্মাতে দেয় না। একটা গাছ থেকে আরেকটি গাছের পর্যাপ্ত পুষ্টি প্রাপ্তির জন্য দূরত্ব চাই।

শিমুল, শিরীষ, জারুল ও হিজল গাছ আমাদের দেশের দরকারী উদ্ভিদ। শিকড় গভীরে প্রোথিত হয়। ফলে পাশে অন্য কিছুও জন্মাতে পারে।

কুলাউড়া স্টেশনে নেমে বেবিট্যাক্সিতে করে বড়লেখার শিমুলিয়া গ্রাম। পাশেই ৫ কিলোমিটার ভেতরে পাথারিয়ার পাহাড় আর মাধবকুণ্ডের ঝর্ণা। 
এসব ল্যান্ডস্কেপে সুপারি, জবা ফুল, সেগুন গাছ খাপ খায় না। পাহাড়ি প্রকৃতির নিজস্বতা আছে। তার বাইরে যদি এসব গাছ লাগানো হয় তাহলে তো প্রাকৃতিক হলো না। অথচ এই পাহাড়ি অঞ্চলে সেসব বৃক্ষ ও গাছপালা লাগানো হয়েছে, যেগুলো এখানকার সঙ্গে যায় না। দীর্ঘদিনের ভুল চর্চায় এমন হাল হয়েছে যে, বনায়নের কথা বলতে গেলে ইউক্যালিপটাস, মেহগনি জাতীয় একাশিয়া শ্রেণির গাছ লাগানোর কথাই মনে করা হয়। এ ধরনের প্রবণতা গড়ে ওঠার একটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে বিদেশ থেকে আনা অর্থ দিয়ে বনায়নের পরিকল্পনা।


আমাদের পাখিরা একাশিয়া, ইউক্যালিপটাস, মেহগনি গাছগুলোতে বসে না। কারণ এসব গাছ তারা চেনে না। এগুলো বিদেশ থেকে আসা। বিদেশি গাছে দেশি পাখিরা না বসার কারণ হচ্ছে তারা তো ওই গাছের গন্ধ চেনে না। ফলে পরিবেশগত ভারসাম্য রাখতে পারে না। গাছপালার বংশবৃদ্ধিতেও পাখির ভূমিকা বিঘি্নত হচ্ছে।

মেহগনি ও সেগুন, রেইন ট্রি শুধু কাঠই দেয়। মেহগনি যদিও চিরসবুজ, কিন্তু এটি বাড়ে ধীরগতিতে। অথচ রাস্তার ধারে দেশীয় পাঁচমিশালি ফলদ গাছ, যা থেকে প্রতি বছর ফল ও পরিণত বয়সে কাঠ পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়_ আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু ও অন্যান্য ফল চাষ করে আমরা ফল ও কাঠের চহিদা পূরণ করতে পারি। 

এ ছাড়া আছে জলপাই, চালতা, তেঁতুল, তাল, খেজুর, গাব, বেল, কুল প্রভৃতি ফলের গাছ; অর্জুন, নিম, আমলকী, হরীতকী প্রভৃতি ঔষধি গাছ। এগুলো আমাদের দেশের জন্য খুবই উপযোগী।


রেইনট্রি আমাদের দেশের জন্য ক্ষতিকর। মেহগনি যদিও চিরসবুজ, কিন্তু এটি বাড়ে ধীরগতিতে। রাস্তার ধারে লাগানো এসব কাঠের গাছ থেকে একসময় কাঠ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, তস্করবৃত্তির কারণে বাস্তবে তা আদৌ সম্ভব কি না, ভবিতব্যই জানে। অথচ রাস্তার ধারে দেশীয় পাঁচমিশালি ফলদ গাছ, যা থেকে প্রতিবছর ফল ও পরিণত বয়সে কাঠ পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

আম, জাম, কাঁঠাল, জলপাই, চালতা, তেঁতুল, তাল, খেজুর, গাব, বেল, কুল, লটকন, কাউ প্রভৃতি ফলের গাছের পাশাপাশি অর্জুন, নিম, আমলকী, হরীতকী, বহেড়া প্রভৃতি ঔষধি গাছ দৃষ্টিনন্দনও। কৃষ্ণচূড়া কদম, কাঠবাদাম প্রভৃতি গাছ লাগালে জীববৈচিত্র্য রক্ষাসহ সেগুলো খাদ্য ও পুষ্টির জোগান দিত।

কাঠের কথা চিন্তায় থাকবে, পাশাপাশি কাঠ ও ফল উভয়ের কথা চিন্তা করতে হবে। বিদেশি ফল ও কাঠনির্ভর হওয়া মানে দেশের টাকা বিদেশে চলে যাওয়া।

তাই গাছ লাগাতে শতকরা ৫০ ভাগ দেশীয় ফলের গাছ, ১০ ভাগ ঔষধি গাছ, ১০ ভাগ অন্যান্য গাছ এবং ৩০ ভাগ কাঠের গাছ লাগানো উচিত। 



বিদেশ থেকে আনা আকাশি, ম্যানজিয়াম, রাবার, ইউক্যালিপটাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির আগ্রাসী গাছ-গাছালি আমাদের জীববৈচিত্র্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। স্থানীয় প্রজাতির গাছ, কৃষি উত্পাদন বিপন্ন হয়ে পড়ছে। সিলেট অঞ্চলের সংরক্ষিত বনাঞ্চল, রাস্তার ধারে এসব বিদেশি গাছের বাগান এখন ব্যাপকভাবে দৃশ্যমান। 

সামাজিক বনায়ন এবং ব্যক্তি উদ্যোগে আগ্রাসী প্রজাতির এসব গাছ রোপণ করা হচ্ছে। বন বিভাগও পিছিয়ে নেই। দ্রুত বর্ধনশীল এসব প্রজাতির গাছ দিয়ে তারাও বনায়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত বর্ধনশীল হওয়ায় মুনাফা ঘরে তোলা যায় তাড়াতাড়ি। মূলত এ কারণেই গত কয়েক যুগ ধরে এসব গাছ লাগানোর হিড়িক পড়ে  গেছে। দেশি প্রজাতির মূল্যবান কাঠ, ফল ও ঔষধি গাছ লাগানোর বিষয়টি উপেক্ষিত হচ্ছে।

 ‘আমাদের দেশে দরকার জলজ উদ্ভিদ। এখানে জলজ জায়গা বেশি। শিকড় গভীরে প্রোথিত হয়। ফলে পাশে অন্য গাছ-গাছালি জন্মাতে পারে।’

রাস্তার পাশে লাগানো বিদেশি গাছের ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে কৃষির উপর।  আকাশী, ম্যানজিয়াম গাছ কৃষি জমি নষ্ট করছে। মাছের জন্যও এগুলো ক্ষতিকর। গাছের ছায়া ধানের জমির বেশ কিছু জায়গা দখল করে রাখে। ছায়ায় হওয়া এই ধান গাছ পাতা মোড়ানো রোগসহ বিভিন্ন ছত্রাকে আক্রান্ত হয়। এসব ধান পরে গরু মহিষকে খাওয়ানো ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। 

আকাশী গাছের ছায়ায়  কোনো সবজিও হয় না। এসব গাছের কারণে মাছের চাষও ব্যাহত হচ্ছে। এ ধরনের নানা নেতিবাচক প্রভাব থাকার পরও আনাচে-কানাচে সড়কপথ ও রেলপথের পাশে এসব গাছ দিয়ে সামাজিক বনায়নের হিড়িক শুরু হয়েছে। 


 আগ্রাসী প্রজাতির গাছগাছালি, পশু-পাখির খাবার তৈরি করে না এবং দ্রুত বিস্তারের সময় অন্য গাছের সালোক সংশ্লেষণ-প্রক্রিয়া ব্যাহত করে। যে কারণে জীববৈচিত্র্যের জন্য গাছগুলো খুবই ক্ষতিকর।

Sunday, September 15, 2019

কাঠ উৎপাদনকারী উদ্ভিদ

কাঠ উৎপাদনকারী উদ্ভিদ



জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাঠের গুরুত্ব অপরিসীম। কাঠ বলতে বুঝায় যে সকল গাছ জ্বালানী ছাড়া বাড়িঘর নির্মাণ, আসবাবপত্র তৈরী, জাহাজ ও ব্রীজ তৈরীতে ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশ জীববৈচিত্রে সমৃদ্ধ একটি দেশ। এদেশে প্রায় ৫০০০ উদ্ভিদ প্রজাতি রয়েছে। এর মধ্যে বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদ রয়েছে প্রায় ৯১৫ টি বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদ প্রজাতি দেশের বনাঞ্চলগুলোর প্রধান উপাদান, বৃক্ষপ্রজাতির প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ গুরুত্ব রয়েছে। 

সকল বৃক্ষ প্রজাতি হতে ভালো মানের কাঠ পাওয়া যায় না বিধায় অনেক বৃক্ষ প্রজাতির পরিচিতি কম। বাংলাদেশের বর্ধিত জনসংখ্যার চাহিদা মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত কাঠ জোগান দিতে এদেশের কাঠ উৎপাদনকারী উদ্ভিদের উপর চাপ পড়বে। 

বানিজ্যিকভাবে ৪০-৫০ প্রজাতি কাঠ উৎপাদনকারী উদ্ভিদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসলেও আরো অনেক প্রজাতি রয়েছে যাদের কাঠের গুনগত মান ভালো। এসব কাঠ বাড়িঘর নির্মাণ, আসবাবপত্র তৈরীতে ব্যবহার করা যায়। 

৩৪২ টি প্রজাতির বৃক্ষজাতীয় উদ্ভিদ ফরেস্ট ইকোসিস্টেমের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বাংলাদেশ ন্যাশনাল হারবেরিয়াম বাংলাদেশে জন্মে এমন ২২৯ টি কাঠ উৎপাদনকারী উদ্ভিদ প্রজাতির তালিকা প্রণয়ন করেছে এবং এদের কাঠের গুনাগুন বিশ্লেষণ করেছে।  এই লিংকে তাদের তথ্য রয়েছেঃ

http://www.bnh.gov.bd/site/page/feab1654-0852-4ca5-a2ba-fe566b866d3a/%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%A0-%E0%A6%89%E0%A7%8E%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80-%E0%A6%89%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AD%E0%A6%BF%E0%A6%A6

Thursday, May 25, 2017

শহরের রাস্তা ও ব্যস্ত সড়কে কোন ধরনের গাছ লাগানো উচিত

শহরের রাস্তা ও ব্যস্ত সড়কে কোন ধরনের গাছ লাগানো উচিত


 
মহাসড়কে গাছ লাগানো একটি মহাপরিকল্পনার বিষয়।

সড়কের পাশে বড় বড় গাছ লাগানো উচিত। কারণ আমাদের শহরগুলোতে বনভূমি বড়ই কম ।দূষণ ও তাপ অত্যধিক। এজন্য জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ছে । সড়কের এক পাশে নাগেশ্বর সারিবদ্ধভাবে লাগানো যায় । কৌণিক চিরসবুজ বৃক্ষ, ডালপালা ছড়ায় না, সুগন্ধি ফুল ফোটে, পথপাশে রোপণের জন্য আদর্শ।


সড়কের পাশে সারি সারি কনকচূড়া (পেল্টোফরাম), সিলভার লিফ ওক , নগর–নিসর্গ পরিকল্পনার আদর্শ হতে পারে ।

রাস্তার পাশে বৃক্ষশোভার জন্য মেহগনি অথবা বনসাই জাতীয় গাছ লাগানো উচিত নয় ।

রাস্তার দুই পাশে শক্ত-সমর্থ লম্বাটে এক সারি বা দুই সারি গাছ লাগানো যেতে পারে। যেমন : নাগেশ্বর, শাল , নাগলিঙ্গম, তেলশুর, দেশি দেবদারু, দইগোটা, শাল, বনবৃক্ষ গুলাল (Diogpuros toposia) ইত্যাদি।



সড়কের পাশে ও মাঝখানে কী কী গাছ লাগানো হবে, সে জন্য কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা আবশ্যক।

রেলপথ ও সড়কপথের দুই পাশে গাছ লাগানো উচিত মূল রাস্তা থেকে অন্তত সাত-আট মিটার দূরে । মধ্য উচ্চতার কয়েক সারি গাছ, বেশির ভাগই বুনো ফল। কিশোরদের দল সেই ফল খাবে।

হাইওয়েগুলোতে সর্বসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ হওয়া উচিত । দুই পাশে বেড়া দিয়ে পারাপারের জন্য নির্দিষ্ট দূরত্বে পুল বা ফ্লাইওভার রাখা প্রয়োজন ।

 মহাসড়কের পাশে বা মাঝখানে গাছ লাগানোর ব্যাপারে বিভিন্ন দিক লক্ষ্য রাখতে হবে ।

প্রথমে সড়ককে ছায়াচ্ছন্ন না করা, যানবাহনের নিরাপত্তা এবং শেষে অর্থনৈতিক ও নান্দনিক বিবেচনা।

বজ্রপাত থেকে সুরক্ষার জন্য রাস্তার পাশে তালগাছ লাগানো অযৌক্তিক ।

পথের ধারে তালগাছ লাগানোর সমস্যা হলো : গাছ থেকে তাল পড়ে পথচারীর আহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আমাদের দেশে সড়ক থেকে সাত-আট মিটার দূরে গাছ লাগানোর তেমন সুযোগ নেই।


মহাসড়কে বিশাল মিড-আইল্যান্ড করা উচিত নয় করলেও পরিকল্পনাহীনভাবে তাতে লাগানো বড় মাঝারি বৃক্ষ এবং প্রচুর লতাগুল্ম রাখা উচিত নয়


যদি মিড-আইল্যান্ডে গাছ লাগাতেই হয়, সে ক্ষেত্রে ভেষজ বৃক্ষের কথা বিবেচ্য হতে পারে। কিংবা অন্যতর বিকল্প কিছু। লাগানো যেতে পরে অনেক দূর পর্যন্ত এক রঙের ফুল কিংবা মিশ্র বর্ণের সজ্জা।


কৃষ্ণচূড়া, কনকচূড়া, জারুল, সোনালু, কাঞ্চন, অশোক, আকরকাঁটা, উদাল, কলকে, কাঠগোলাপ, কুরচি, গাব, ছাতিম, নাগেশ্বর, কদম, পলাশ, লাল সোনালু, কনকচাঁপা (রামধনুচাঁপা) স্বর্ণচাঁপা, শেফালি, সুলতানচাঁপা, চালতা, হাড়গজা, হিজল ইত্যাদি। এমন গাছের জমিন রইল পতিত, আবাদ করলে ফলত সোনা।

 শহরে ও মহাসড়কে গাছ লাগানো একটি বহুমুখী জটিল কর্মকাণ্ড আর এ জন্য প্রয়োজন বিভিন্ন ধরনের বিশেষজ্ঞ। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলেন ল্যান্ডস্কেপ স্থপতিরা, যাঁরা দেশ-বিদেশের গাছপালা চেনেন এবং সৌন্দর্য নির্মাণে সুদক্ষ।

আমাদের ছাড়া ছাড়া ও দায়সারা কাজকর্ম দেখলে মনে হয় এটা যে একটা ডিসিপ্লিন বা বিদ্যা, তা উপলব্ধি করতে আমরা আজও সম্যক সক্ষম হইনি।